শারজা: নয়ের দশকে শারজায় ভারত-পাক ক্রিকেটের উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে৷ এবারের আইপিএল সেই শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়াম প্রথম ম্যাচেই সাক্ষী থাকল হাইস্কোরিং ম্যাচের৷ একই সঙ্গে অভিনব ঘটনার৷ ম্যাচ জয়ের আশা না-থাকলেও শেষ ওভারে তিনটি ছক্কা মারেন মহেন্দ্র সিং ধোনি৷ যার একটি ছক্কা স্টেডিয়ামের বাইরে গিয় পড়ে৷ আর সেখান থেকে বলটি কুড়িয়ে নিয়ে বাড়ির পথে হাঁটা লাগালেন এক ব্যক্তি৷

মঙ্গলবার আইকনিক শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২০২০ আইপিএলের চতুর্থ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল চেন্নাই সুপার কিংস এবং রাজস্থান রয়্যালস৷ শারজা স্টেডিয়ামের বাইশ গজে উজার করে দিল ব্যাটসম্যানদের৷ ম্যাচে মোট উঠল ৪১৬ রান। রয়্যালস ১৬ রানে থ্রিলার ম্যাচ জিতে নিলেও শেষ ওভারে ধোনির তিনিট ছক্কা ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে৷

রাজস্থান রয়্যালেসর ইংরেজ পেসার টম কারানের বোলিংয়ে ধোনির তিনটি ছক্কা মধ্যে দু’টি স্টেডিয়ামের বাইর গিয়ে পড়ে৷ ধোনির ছক্কা হাঁকানোর সঙ্গে সঙ্গে ক্যামেরা লেন্স বলটিকে অনুসরণ করে৷ যাতে দেখা যায় বলটি এটি চলন্ত গাড়ির সামনে রাস্তায় মধ্যে পড়ে৷ সঙ্গে এক ব্যক্তি সেই বল কুড়িয়ে নিয়ে হাসতে হাসতে পালিয়ে যান৷

তারপর ধারাভাষ্যকাররা বলেন, “এক ফ্যান বলটি কুড়িয়েছে৷ কিন্তু সেটি এটি ফিরিয়ে না-দিয়ে নিয়ে চলে যান৷ মনে হয় তিনি আজীবন বলটিকে মূল্যবান সম্পদ হিসেবে সংগ্রহে রাখবেন৷’

কোভিড-১৯ কারণে এবারের আইপিএল শুরু হয়েছে ছ’ মাস পর৷ তাও আবার বিদেশের মাটিতে৷ দেশে করোনা ক্রমশ বাড়তে থাকায় বিসিসিআই এবারের আইপিএল আমিরশাহীতে করার সিদ্ধান্ত নেয়৷ আমিরশাহীর তিনটি শহরে চলছে আইপিএলের ত্রয়োদশ সংস্করণ৷ কিন্তু কোভিড-১৯ সংক্রমণ রুখতে ম্যাচে দর্শক প্রবেশে অনুমতি দেয়নি আমিরশাহী সরকার৷ ফল আইপিএলের মতো বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফ্র্যাঞ্জাইজি ক্রিকেট লিগ হচ্ছে দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে৷

মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ও চেন্নাই সুপার কিংসের মধ্যে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচটি হয় আবুধাবির জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে৷ পরের দু’টি ম্যাচ হয় দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম৷ আর মঙ্গলবার টুর্নামেন্টের চতুর্থ ম্যাচটি হয় শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে৷ প্রথম ম্যাচেই শারজা স্টেডিয়াম সাক্ষী থাকে ব্যাটিং তাণ্ডবের৷ প্রথম সঞ্জু স্যামসন ও স্টিভ স্মিথ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ফ্যাফ ডু’প্লেসি ও ধোনির ব্যাটিং ছিল এই ম্যাচের আকর্ষণ৷

ধোনি যখন ক্রিজে আসেন, তখন সিএসকে-র দরকার ছিল ৩৮ বলে ১০৩ রান৷ ডু’প্লেসি রান ও বলের ব্যবধানে কিছুটা কমালেও শেষরক্ষা হয়নি৷ তিনি ৭২ রানে আউট হওয়ার পর শেষ ওভারে চেন্নাইয়ের জয়ের জন্য দরকার ছিল ৩৮ রান৷ যা ছিল কার্যত অসম্ভব৷ কারণ নো-বল বা ওয়াইড বল না-হলে চেন্নাইয়ের কাছে ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনা ছিল না৷ কিন্তু নেট রান-রেট বাড়াতে শেষে রয়্যালস বেলারা কারানকে পরপর তিনটি ছক্কা হাঁকান৷ শেষ পর্যন্ত ১৭ বলে ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন ধোনি৷ ২১৭ রান তাড়া করতে নেমে সিএসকে ২০০ রান তোলে৷

এই ম্যাচ সাক্ষী থাকে ৩৩টি ছক্কা’র৷ যা একটি নতুন রেকর্ড। এর আগে আইপিএলে একটি সর্বাধিক ৩৩টি ছক্কা হয়েছিল ২০১৩ সালে সিএসকে বনাম আরসিবি ম্যাচে৷ আইপিএলের ওই সংস্করণে কলকাতার নাইট রাইডার্স- সিএসকে ম্যাচে ছক্কা হয়েছিল ৩২টি৷

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।