রাঁচি: ‘ধোনি-দ্য আনটোল্ড স্টোরি’। পর্দায় নিপুণভাবে ধোনির চরিত্রায়ণের জন্য তাঁর পরিশ্রমটাকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন অনেকে। একইসঙ্গে মুগ্ধ হয়েছেন। সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর খবর শুনে কিরণ মোরে তো বলেইছেন, ‘ওকে দেখে বুঝেছিলেম অভিনেতা হওয়াটা মুখের কথা নয়।’ আর রিল লাইফের ধোনি, তাঁর কী বক্তব্য ছিল ধোনিকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলার পিছনে নিজের পরিশ্রম সম্পর্কে?

সুশান্ত ছবিটির পিছনে তাঁর পরিশ্রম নিয়ে বলতে গিয়ে জানিয়েছিলেন, ‘আমি যদি পর্দায় ধোনির চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে ব্যর্থ হই তাহলে ধোনির সমর্থকেরা আমায় ক্ষমা করবে না।’ পর্দায় চরিত্রায়ণের প্রতি এই যার ডেডিকেশন, সে কীনা হাল ছেড়ে দিল এত সহজে। না সত্যি বিশ্বাস হচ্ছে না এখনও।

মায়ানগরী মুম্বইয়ে সোমবার সকাল থেকে অঝোর ধারায় বৃষ্টি হয়ে চলেছে। ১৪ বছর ধরে ছেলেটার স্ট্রাগল দেখেছে যে শহর, আকাশভাঙা বৃষ্টি নিয়েই অন্তিমযাত্রায় সঙ্গী হল সে। সুশান্ত পঞ্চভূতে বিলীন হলেন। ইন্ড্রাষ্টির কো-স্টারদের শোকবার্তার মাঝেও বারবারই একটা বিষয় মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে কারও কারও বক্তব্যে। সেটা হল ‘নেপোটিজম ইন বলিউড’।

এই নেপোটিজমের জন্যেই কিন্তু শেষ ‘ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড’ বয়কট করেছিলেন বহু তারকা। সুশান্তের মৃত্যুর পর সেই নেপোটিজমের সুর চড়িয়ে কঙ্গনা তো ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেই ফেললেন, ‘ছিছোরের মত ছবি থাকতে সব পুরস্কার কেন গাল্লি বয় নিয়ে যাবে?’ ভাবার সময় হয়তো সত্যিই এসেছে। কিন্তু আফসোস একটাই, যে শহরের মানুষ মৃত্যুর পর তাঁর শোকে আকুল হচ্ছে, সেই শহরটাতেই শেষবেলায় কাউকে পাশে পেলেন না সুশান্ত। সবাই কিছু না কিছু বলছেন। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে চুপ একজন। তিনি মহেন্দ্র সিং ধোনি স্বয়ং।

সুইসাইডাল রানে দেশকে ফাইনালে নিয়ে যেতে ব্যর্থ হয়েছিলেন গতবছর জুলাইতে। যন্ত্রণা কুঁড়ে-কুঁড়ে খাচ্ছিল। যন্ত্রণা ভুলতে টেরিটোরিয়াল আর্মিতে প্রশিক্ষণের অজুহাতে ওই যে দল থেকে সরে দাঁড়ালেন, আজও তাঁর কামব্যাকের অপেক্ষায় দিন গুনছে মাহি অনুরাগীরা। এহেন ধোনি সুশান্তের মৃত্যুর পর সহজে যে মুখ খুলবেন না সেটা ‘কোয়াইট অবভিয়াস’।

সত্যি বলতে সুশান্তের মৃত্যুতে ধোনি তো তাঁর ছায়া হারালেন। যে ছায়া গত চার বছর ধরে তাঁর সঙ্গে ঘুরছিল। ‘ধোনি-দ্য আনটোল্ড স্টোরি’ মুক্তির সময় একটি বিজ্ঞাপন ভীষণ জনপ্রিয় হয়েছিল। সুশান্তের মৃত্যুর পর থেকে ইন্টারনেটে আর বেশি করে ঘুরছে সেটা। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে ধোনিকে অনুকরণ করার চক্করে বেডরুম থেকে কিচেন এমনকি ল্যাট্রিনেও ধোনির পিছু নিচ্ছেন সুশান্ত।

বিজ্ঞাপনটি মজার ছলে বানানো হলেও বাস্তব কিন্তু অনেকটা এমনই ছিল। বহু কষ্টে ছবির পরিচালক নীরজ পান্ডে। ধোনিকে রাজি করিয়েছিলেন সুশান্তের ব্যাপারে। এরপর একটা সময় রাঁচির ফার্মহাউসে সুশান্ত অতিথি নন বরং একজন সদস্য হয়ে গিয়েছিলেন। ধোনির কোলে জিভা। আর জিভার গায়ে মাথা রেখে সুশান্ত। গতকাল থেকে খুব চোখে লাগছিল ছবিটা।

শুধু ওই ছবিটা কেন, ধোনির সঙ্গে একই ফ্রেম শেয়ার করা সুশান্তের যে কোনও ছবিই যেন চোখের কোনে জল নিয়ে আসছে শুধু এই ভেবে যে, ছায়াকে হারিয়ে ধোনি কতটা নিঃসঙ্গ বোধ করছেন? ধোনির মৌনতা প্রসঙ্গে তাঁর বন্ধু মিহির দিবাকর জানিয়েছেন, পরিবারের কেউ চলে গেলে কখনও কী পরিবারের বাকি সদস্যরা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে? সত্যিই তো তাই।

সুশান্তের মৃত্যু তো ধোনির কাছে স্বজন হারানোর বেদনা। তাইতো যেভাবেই হোক না কেন, অভিনেতার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে ধোনি নিজেকে আইসোলেট করেছেন রাঁচির ফার্ম-হাউসে। প্রতিক্রিয়াহীন সাক্ষীও।

একটি বাংলা ক্রীড়া সংবাদমাধ্যমের তরফ থেকে গতকালই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছিল ‘ধোনি-দ্য আনটোল্ড স্টোরি’ ছবির পরিচালক নীরজ পান্ডের সঙ্গে। তিনি জানান, ‘সুশান্ত যে আর নেই, তা বিশ্বাস করতে পারছেন না তিনি। ধোনিরও একই অবস্থা। মানসিকভাবে একেবারে ভেঙে পড়েছেন বাস্তব জীবনের মাহি। কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছেন না, সুশান্ত আর নেই।’

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ