ম্যাঞ্চেস্টার: মাহি ফ্যানেদের হাত থেকে রেহায় পেলেন না ক্রিকেটঈশ্বর সচিন তেন্ডুলকরও৷ আফগান ম্যাচে মন্থর ব্যাটিংয়ের জন্য মহেন্দ্র সিং ধোনির সামালোচনা করেছিলেন লিটল মাস্টার৷ এর ফলে সচিনকেও কটুক্তি করতে ছাড়লেন না ধোনি সমর্থকরা৷

সাউদাম্পটনে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ জিতে এই বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত অপরাজিত রয়েছে ভারত৷ কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানকে হেলায় হারালেও আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে জিততে বেগ পেতে হয়েছে বিরাটবাহিনীকে৷ হ্যাম্পশায়ার বোলের বাইশ গজে আফগানদের বিরুদ্ধে মাত্র ২২৪ রান তুলেছিল ভারত৷ পঞ্চম উইকেটে ধোনি ও কেদার যাদবের ৫৭ রানের পার্টনারশিপে ভর করে দু’শোর গণ্ডি টপকে ছিল টিম কোহলি৷

৫২ বল খেলে মাত্র ২৮ রান করেছিলেন ধোনি৷ ইনিংসের ৪৫তম ওভারে স্টাম্পড হয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরেন ধোনি৷ ২০১১ পর ওয়ান ডে ক্রিকেটে দ্বিতীয়বার স্টাম্প আউট হন মাহি৷ স্লগ-ওভারে স্বাভাবিক ব্যাটিং না-খেলায় ধোনির সমালোচনা করেন সচিন৷ সিনিয়র ব্যাটসম্যান হিসেবে ধোনির ইতিবাচক ব্যাটিং করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন মাস্টার ব্লাস্টার৷

ভারতীয় ইনিংসের পর সর্বভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেলে এক সাক্ষাৎকারে ভারতীয় ব্যাটিং সম্পর্কে সচিন বলেছিলেন, ‘ভারত অত্যন্ত স্লো ব্যাটিং করেছে৷ ৩৪ ওভার স্পিন খেলেও মাত্র ১১৯ রান তোলে৷ এটা আমাদের মোটেই স্বস্তি দিচ্ছে না৷ ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের কোনও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল না৷’

কিন্তু এই মন্তব্যের জন্য সচিনকে তুলোধনা করেন ধোনি ফ্যানেরা৷ টুইটার সচিনের উদ্যেশে ধোনির এক ভক্ত লিখেছেন, ‘তেন্ডুলকর ব্যক্তিগত মাইলস্টোনের জন্য খেলেছেন৷ আর ধোনি দেশের জন্য৷ সচিন নয়, ধোনিই ভারতরত্ন পাওয়ার উপযুক্ত৷’ অন্য এক ধোনির ভক্ত লিখেছেন, ‘সচিন ধোনিকে স্ট্রাইকরেটের কথা বলেছেন৷ কিন্তু উনি তো ৯০ থেকে ১০০ করতে দু’ ডজন বল খেলতেন৷’

আফগান স্পিনারদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা মাত্র একটি ছয় ও ১৫টি বাউন্ডারি মেরেছিলেন৷ একটি ছয় এসেছিল কেদার যাদবের ব্যাট ব্যাট থেকে৷ ধোনি ৫২ বলের ইনিংসে মাত্র ৩টি বাউন্ডারি মারেন৷ বিরাট কোহলির ৬৭ রানের ইনিংসের পর কেদারের ৫২ রান ইনিংস ছিল ভারতীয় ইনিংসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর৷

ভারতীয় ইনিংস সম্পর্কে সচিন বলেন, ‘বিরাট কোহলি আউট হওয়ার পর ৩৮ থেকে ৪৫ ওভারে ভারত বেশি রান করতে পারেনি৷ ওভারে ২ থেকে ৩টি ডট বল খেলেছে৷ মিডল-অর্ডারে আরও ভালো ব্যাটিং করা উচিত ছিল৷ ফলে ধোনি-যাদবের উপর চাপ পড়েছিল৷ কেদারকে দেখেই বোঝা যাচ্ছিল, ও চাপের মধ্যে রয়েছে৷ তবে ধোনি-যাদবরে কাছে এই স্ট্রাইকরেট আশা করা যায় না৷’

এ নিয়ে চারটি (২০০৭, ২০১১, ২০১৫ ও ২০১৯) বিশ্বকাপ খেলছেন ধোনি৷ তবে চলতি বিশ্বকাপে চেনা ছন্দে নেই প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক৷ চার ম্যাচে ধোনির ব্যাট থেকে এসেছে ৩৪, ২৭, ১ এবং ২৮ রান৷ তবে ওয়ান ডে ক্রিকেট সাড়ে ১০ হাজার রান রয়েছে ধোনির৷ গড় ৫০.১৮৷ ১০টি সেঞ্চুরি এবং ৭১টি হাফ-সেঞ্চুরি রয়েছে ধোনির ঝুলিতে৷ সর্বোচ্চ ১৮৩ রান৷