ম্যাঞ্চেস্টার: রবিবাসরীয় ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ম্যাঞ্চেস্টার মহারণ নিয়ে সরগরম ক্রিকেটবিশ্ব৷ আইসিসিও মানে ভারত-পাক লড়াই বিশ্বকাপের ইউএসপি৷ ভারত-পাক মহারণের ঠিক আগে উঠে এল মহেন্দ্র সিং ধোনি ও ‘চাচা চিকাগো’র সম্পর্ক৷ পাকিস্তানের এই কঠোর সমর্থক কীভাবে হয়ে উঠলেন ধোনির অন্ধ ভক্ত?

সেটাও বিশ্বকাপে ভারত-পাক মহারণের জন্য৷ আট বছর আগে অর্থাৎ ২০১১ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মোহালিতে ভারত-পাকিস্তান মহারণ দেখার জন্য পাকিস্তানি ফ্যান তথা মহম্মদ বশির তথা চাচা চিকাগো’র ম্যাচ টিকিটের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন তৎকালীন ভারত অধিনায়ক ধোনি৷ তারপর থেকে ধোনি-চাচা’র সম্পর্ক এখনও অটুট৷ ধোনির নেতৃত্বে ২০১১ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত৷

রবিবার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দেখতে ম্যাঞ্চেস্টারে উপস্থিতি হয়েছেন ‘চাচা চিকাগো’৷ এই ম্যাচেও পাকিস্তানি এই ফ্যানকে টিকিটের ব্যবস্থা করেছেন ধোনি৷ এটাই সম্ভবত ধোনির শেষ বিশ্বকাপ৷ তাই ভারত-পাক লড়াই দেখতে চিকাগো থেকে ম্যাঞ্চেস্টারে উড়ে এসেছেন মহম্মদ বশির৷

মার্কিন বাসিন্দা পাকিস্তানি এই সমর্থক বলেন, ‘আমি এখানে শুক্রবার এসেছি৷ দেখছি এই ম্যাচের টিকিটের জন্য লোকেরা ৮০০ থেকে ৯০০ পাউন্ড খরচ করতে রাজি রয়েছে৷ যেটা আমার চিকাগো ফিরে যাওয়া এয়ার টিকেটের সমান৷ সেখানে ধোনিকে অনেক ধন্যবাদ৷ কারণ এই ম্যাচ টিকিটটা পেতে আমাকে কোনও কষ্ট করতে হয়নি৷

মার্কিন পাসপোর্টধারী ৬৩ বছরের এই পাকিস্তানি সমর্থক আরও বলেন, ‘আমি কল্পনাও করতে পারছি না, যেখানে টিকিটের জন্য হাহাকার সেখানে এই ম্যাচে আমি ফ্রি টিকিট পাচ্ছি৷ সুতরাং আমি এবার ধোনির জন্য সারপ্রাইজ গিফটি এনেছি৷ আশা করি আজ আমি ধোনিকে ওটা দিতে পারব৷’ পাকিস্তানি সমর্থক হলেও তিনি যে ধোনির বড় ফ্যান তা জানাতেও ভোলেননি বশির৷ এর আগে ভারত-পাক ম্যাচে ধোনি ও সাক্ষীর ছবি দেওয়া জামা পড়ে ম্যাচে উপস্থিতি থাকতে দেখা গিয়েছে৷

ধোনির সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ সম্পর্কে বশির বলেন, ‘ধোনি খুব ব্যস্ত মানুষ৷ সুতরাং আমি ওকে কল করি না৷ তবে টেক্ট মেসেজ করে যোগাযোগ রাখি৷ আমি এখানে আসার আগেই ধোনি আমাকে টিকিটের ব্যপারটি নিশ্চিত করেছে৷ ও অনেক বড় মনের মানুষ৷ আমি বিশ্বাস করি না, ও ছাড়া অন্য কেউ ২০১১ থেকে আমাকে এই ম্যাচর টিকিট দিত বলে৷’ পাকিস্তানি এই সমর্থকের ধোনি ছাড়াও ভারতের সঙ্গে নীবিড় সম্পর্ক রয়েছে৷ কারণ বশিরের স্ত্রী’র বাড়ি হায়দরাবাদে৷ ওর পরিবার প্রায়ই ভারতে আসে৷