স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: আমফানে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর তহবিলে ৫০ লক্ষ টাকা দিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। শুক্রবার ব্যক্তিগতভাবে এই টাকা দিয়েছেন তিনি। আমফানে বাংলার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে বৃহস্পতিবার দুঃখপ্রকাশ করেছিলেন।

বাংলায় টুইট করে তিনি লিখেছিলেন, “আমফানের প্রকোপে যে প্রাণহানি ঘটেছে বা সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে তার জন্যে আমি মর্মাহত। আমি গত কয়েকদিন ধরে ক্রমাগত বিভিন্ন এজেন্সির সাথে সম্পর্ক রেখে চলেছিলাম। তাদের দায়িত্ববোধ ফলে বাংলার নুন্যতম ক্ষতি হয়েছে। তবু এটি একটি বিনাশকারী ছাপ রেখে গেছে যা বহু দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ। এখন প্রত্যেককে সর্বব্যাপী ত্রাণের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।”

যদিও ‘বাংলার নুন্যতম ক্ষতি হয়েছে’-তাঁর এই কথায় চরম বিতর্ক তৈরি হয়। তবে ঘূর্ণিঝড়ের অভিঘাত প্রকৃতপক্ষে কতটা, কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সে ব্যাপারে বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরির আগেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই প্রথম কেউ এত বড় অনুদানের কথা ঘোষণা করলেন।

গত প্রায় ২ মাস ধরে করোনাভাইরাসের মোকাবিলা নিয়ে নবান্ন ও রাজভবনের সংঘাত লেগেই রয়েছে। কোভিড মোকাবিলায় প্রশাসনিক গাফিলতি ও অনিয়ম নিয়ে বারবার সরব হয়েছেন রাজ্যপাল। রেশন দুর্নীতির প্রসঙ্গেও তিনি সরকারকে বারবার সতর্ক করেছে। পাল্টা রাজ্যপালকেও তাঁর সীমাবদ্ধতা মনে করিয়েছে শাসক দল। কিন্তু আমফান পরবর্তী পরিস্থিতিতে সকলকেই রাজ্য সরকারের পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানিয়েছেন রাজ্যপাল।

এদিন বাংলার বিপর্যস্ত চেহারা দেখতে রাজ্যে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।হেলিকপ্টারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়কে নিয়ে দুই ২৪ পরগনার বিপর্যস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন তিনি। এর পরে বসির‌হাট কলেজে বৈঠক করেন। সেখানেই প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, শীঘ্রই কেন্দ্রীয় টিম এসে রাজ্যের পরিস্থিতি দেখে ক্ষয়ক্ষতির হিসেব করবে। এর পরে কেন্দ্র অর্থের ব্যবস্থা করবে। আপাতত কেন্দ্র এক হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে রাজ্যকে।