স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: পার্শ্বশিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনায় বসুন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এমনটাই চান রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়৷ শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীকে ট্যুইট করে সেকথা জানিয়েছেন তিনি৷

বেতন কাঠামোর দাবিতে বিকাশ ভবনের উলটোদিকে চলতি পার্শ্বশিক্ষকদের আন্দোলনের আঁচ ক্রমশ চড়ছে। আর সেই আঁচে ঘৃতাহুতি দিয়েছে রেবতী রাউতের মৃত্যু।এদিন রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রীকে টুইটে বলেন, প্রায় ১ হাজার পার্শ্বশিক্ষক ১১ তারিখ থেকে আন্দোলন শুরু করেছেন। যাদের মধ্যে ৩৭ জন শুক্রবার থেকে অনশন শুরু করেছেন। আর তার জেরেই শারিরীক ভাবে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের রেবতী রাউত। এই পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা চান তিনি।
রাজ্যপালের এই টুইট রেবতীর মৃত্যুর ইস্যুকে আরও কিছুটা উস্কে দিল বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

অনশনরত অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে রেবতী রাউত নামে এক পার্শ্বশিক্ষকের৷ আর একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক৷ ঐক্য মঞ্চ ফেসবুক পেজে রেবতী দেবীকে এই আন্দোলনের ‘প্রথম শহিদ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে রেবতী রাউতের মৃত্যুর কারণ এবং তারিখ নিয়ে রীতিমতো বিতর্ক বেঁধেছে। সংগঠনের দাবি, অনশনজনিত অসুস্থতাতেই রেবতীর মৃত্যু হয়েছে। রেবতী রাউতের মৃত্যু, তাপস বরের ব্রেন স্ট্রোক ছাড়াও অন্তত ৬ জন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে পার্শ্বশিক্ষক ঐক্য মঞ্চের তরফে দাবি করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেছে বিভিন্ন শিক্ষক ও কর্মী সংগঠন।পুলিশ সূত্রের দাবি, বাইক থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে রেবতী রাউত নামে ওই মহিলার। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এখনও মেলেনি।পার্শ্বশিক্ষক আন্দোলনের অন্যতম নেতা ভগীরথ ঘোষও পুলিশের সুরেই কথা বলেছেন৷ তাঁরও দাবি, রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাতই পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয় রেবতী দেবীর।

এদিকে, এদিন বেতন কাঠামোর দাবিতে অনশনরত পার্শ্বশিক্ষকদের এই আন্দোলনের আঁচ গিয়ে পড়েছে সংসদে অন্দরে। এই ইস্যুতে সংসদে প্রবল হইচই শুরু করেন রাজ্যের বিজেপি সাংসদেরা।

হুগলির সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, পনেরো দিনের বেশি হয়ে গেল পার্শ্ব শিক্ষকরা অনশন করছেন। কিন্তু রাজ্য সরকারের কেউ সেখানে দেখতে যায়নি। পশ্চিম মেদিনীপুরের এক শিক্ষিকার মৃত্যু হয়েছে। ৫-৬ জন হাসপাতালে ভর্তি। বাংলায় শিক্ষকদের শোচনীয় অবস্থা বলে অভিযোগ করেন তিনি। লকেট বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মেলা-খেলার জন্য টাকা দিচ্ছেন, কিন্তু শিক্ষকদের দিকে তাকাচ্ছেন না। উল্টে মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আঙুল তুলে অভিযোগ করছেন, টাকা দেওয়া হচ্ছে না। বিজেপি সাংসদদের এই ইস্যুটিকে সংসদের সামনে পেশ করার অনুমতি দেন স্পিকার। যদিও তৃণমূল সাংসদের পালটা না বলতে দেওয়ায়, লোকসভার স্পিকারের কাছে চিঠি লিখে প্রতিবাদ জানায় রাজ্যের তৃণমূল সাংসদেরা।