স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: কেন্দ্রের কাছে সেনা চাওয়ার জন্য শনিবারই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করেছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। কিন্তু রবিবার রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান মুখ্যমন্ত্রীর বললেন, তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে তিন দিন আগে সেনা নামানোর যেত।

মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে রাজ্যপাল টুইটারে লেখেন, “মানুষ ন্যূনতম পরিষেবা পাচ্ছে না। মানুষ অত্যন্ত দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এসব দেখে আমি ব্যথিত। সরকারের কাছে আমার আর্জি, সরকারি সমস্ত সংস্থাগুলি অবিলম্বে সমস্ত শক্তি দিয়ে পরিষেবা চালু করুক।

এরপরই তিনি লেখেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনুরোধ, রাজ্যপালের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখুন। সেটা রাখলে তিন দিন আগেই সেনাবাহিনীকে তলব করা যেত।” তবে রাজ্যপালের আগেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও লোকসভায় কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী রাজ্যের সমালোচনা করেছেন।

তাঁদের বক্তব্য, রাজ্য সরকারের বৃহস্পতিবার সকালেই সেনাবাহিনীর সাহায্য চাওয়া উচিত ছিল। তাহলে মানুষের এত হয়রানি হত না। উল্লেখ্য, ঘূর্ণিঝড় আমফানের প্রভাবে বিপর্যস্ত রাজ্যের জরুরী পরিষেবা ও জনজীবন দ্রুত স্বাভাবিক করতে কেন্দ্রের কাছে সেনা নামানোর আর্জি জানিয়েছিল স্বরাষ্ট্র দফতর। রাজ্যের আবেদনে সাড়া দিয়ে পাঁচ কলম সেনা নামানো হয়েছে বলে ভারতীয় সেনার পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের তরফে জানানো হয়েছে।

এদিন রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়কে সঠিক তথ্য দিন। অতিরঞ্জিত হিসাব দিলে তার ফল উল্টো হবে।” তবে সাধারণ মানুষের উদ্দেশে রাজ্যপাল বলেছেন, এখন শান্ত থাকুন। সহ্য করুন। প্রতিক্রিয়া দেখানোর সময় পরেও পাবেন। জগদীপ ধনকড় রাজভবনে পা রাখার পর থেকে নবান্নের সঙ্গে তাঁর সংঘাত লেগেই রয়েছে।

এমনকি কোভিড পরিস্থিতি নিয়েও রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীর পত্রযুদ্ধ দেখেছে রাজ্যবাসী। তবে আমফান পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে হেলিকপ্টারে রাজ্যপালের ওঠা এবং মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে তাঁর ৫০ লক্ষ টাকা দানের পর কেউ কেউ হয়তো ভেবেছিলেন, এবার হয়তো ছবিটা বদলাচ্ছে। কিন্তু রবিবার সকাল সকাল ফের মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে কড়া টুইট করে সংঘাত জিইয়ে রাখলেন ধনকড়।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।