স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: মালদহে সুজাপুরে প্লাস্টিক কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় রাজ্যের তৃণমূল সরকারকেই কাঠগড়ায় তুললেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। টুইটারে তিনি দাবি করেছেন, রাজ্যে বোমা তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে। এর জন্য নিরপেক্ষ পুলিশি তদন্তের দাবিও তিনি জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মালদহ জেলার কালিয়াচক থানার সুজাপুরে একটি প্লাস্টিক কারখানায় জোরদার বিস্ফোরণের শব্দে চমকে ওঠেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা জানিয়েছেন, কর্মরত শ্রমিকরা সকলেই ওই এলাকারই বাসিন্দা।

মোট জনা পঞ্চাশেক শ্রমিক ওই কারখানায় কাজ করতেন। কাজ চলাকালেই একটি ক্রাশার মেশিন সশব্দে ফেটে যায়। এই ক্রাশার মেশিনের মাধ্যমে প্লাস্টিকের দানা বের করা হয়।

আহত শ্রমিকদের মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এই ঘটনায় চার জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

গুরুতর জখম হয়েছেন আরও অনেকে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে শ্রমিকদের দেহ টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে। এরপরই টুইটে মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে রাজ্যপাল লিখলেন, “এবার তো বোমা তৈরির কারখানাগুলি বন্ধ করুন।”

উল্লেখ্য, সেপ্টেম্বর মাসেও মুর্শিদাবাদ থেকে ছয় জঙ্গির গ্রেফতার হতেই এই একইভাবে টুইটে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেছিলেন রাজ্যপাল। তিনি লিখেছিলেন, “বেআইনি বোমা তৈরির কারখানা হয়ে উঠেছে রাজ্য। এতে গণতন্ত্র বিপন্ন হতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পুলিশ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিকে রুখতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। যাঁরা পুলিশ–প্রশাসনে উচ্চপদে রয়েছেন, তাঁরা রাজ্যের আইন–শৃঙ্খলার এই পরিস্থিতিতে দায়িত্ব এড়াতে পারেন না।”

বিস্ফোরণের খবর পেয়েই নবান্নে জরুরি বৈঠকে বসেন প্রশাসনিক কর্তারা।গোটা ঘটনার উপরে নজর রাখা হচ্ছে, জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব।

dhankar-mamta

বিস্ফোরণে নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ টাকা এবং আহতদের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে মালদহের উদ্দেশে হেলিকপ্টারে রওনা হন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। এই ঘটনায় এনআইএ তদন্তের দাবি জানিয়েছে বিজেপি।

জেলবন্দি তথাকথিত অপরাধীদের আলোর জগতে ফিরিয়ে এনে নজির স্থাপন করেছেন। মুখোমুখি নৃত্যশিল্পী অলোকানন্দা রায়।