স্টাফ রিপোর্টার , কলকাতা : রাজ্যপাল বেরিয়ে গেলেন। তারপরই সমাবর্তনের পতাকা উড়ল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। যে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা ছিল বেলা ১০.৪৫ মিনিটে। তা সকাল থেকে রাজ্যপালের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ নিয়ে ফের সমস্যার জন্য শুরু হল দুপুর ১২.০৪ মিনিটে। আচার্যের চেয়ার রইল ফাঁকা। শুরু হয় বন্দে মাতরম গান।

মঙ্গলবার রাজ্যপালের গাড়ি যাদবপুর চত্বরে প্রবেশের সঙ্গে বিক্ষোভের মুখে পড়ে। দেড় ঘণ্টা ধরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। উপাচার্য সুরঞ্জন দাসকে ফোন করলে রাজ্যপাল বলে তিনি বলেছেন, তিনি কিছু করতে পারছেন না। উপাচার্যকে পদত্যাগ করতে বলতে শোনা যায় রাজ্যপালকে। ক্ষুব্ধ রাজ্যপাল সংবাদমাধ্যমকে বলেন , ‘সমস্ত ঘটনা রাজনৈতিক ভাবে ইচ্ছা করে ঘটানো হচ্ছে। রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। ছাত্রদের ভবিষ্যৎ একদম গোড়া থেকে নষ্ট করে ফেলতে শেখাচ্ছে এই জঘন্য প্রশাসন। আমি অপমানিত বোধ করছি’। এরপরেও রাজ্যপাল দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকেন গাড়ি নিয়ে। ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলেন। তারপর বেরিয়ে যান। তিনি বেরিয়ে যেতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন প্রাঙ্গণে বেজে ওঠে বন্দে মাতরম গান। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসা করা হলে তাঁরা জানান , ‘আগেও আচার্য ছাড়া সমাবর্তন হয়েছে। এর নিয়মও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে রয়েছে। তাই এই অনুষ্ঠান শুরু হচ্ছে।’ তাঁরা ছাত্রদের সম্মান প্রদানে দেরী করতে চান না বলে জানিয়ে দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করতে যায় রাজ্যপালের গাড়ি। কিন্তু সেই দরজা দিয়ে একটু এগোনোর পরেই রাজ্যপালের গাড়ি আটকে দেয় তৃণমূল সমর্থিত শিক্ষাকর্মী সংগঠন। তাঁকে নাগাড়ে দেওয়া হচ্ছে ‘গো ব্যাক স্লোগান’। কালো পতাকা দেখানো হচ্ছে। রাজ্যপাল গাড়ির মধ্যে থেকেই এই অবস্থার কথা টুইটারে লিখেছেন। তিনি জানিয়েছেন , ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃতি পড়ুয়াদের সম্মান প্রদান করতে এসেছি, কিন্তু আমাকে ভিতরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। আমি খুবই বীতশ্রদ্ধ এই ঘটনায়।’,তবে এরপরেও তাঁদের অবস্থান থেকে নড়তে রাজি নয় ওই শিক্ষাকর্মীরা। স্পষ্ট জানানো হচ্ছে কোনওভাবেই তাঁরা আজকের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাজ্যপালকে যেতে দেবেন না। তাঁদের অভিযোগ , রাজ্যপাল এন আর সি , ক্যাব নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে যাচ্ছেন। রাজ্যের মানুষের জন্য যা সুখকর নয়। রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধির মত তিনি কাজ করে চলেছেন। তিনি কার্যত ‘পদ্মপাল’-এ পরিণত হয়েছেন বলে অভিযোগ তাঁদের। এমন ব্যাক্তিত্বকে তাঁরা যাদবপুরের শিক্ষাঙ্গনে প্রবেশ করতে দিতে রাজি নয় তৃণমূল সমর্থিত শিক্ষাকর্মী সংগঠনের কর্মীরা। পাশাপাশি পড়ুয়ারাও রাজ্যপালের থেকে পুরস্কার নেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। রাজ্যপালকে বয়কটের ডাক দিয়েছে তারা।