স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: শীতকালীন অধিবেশনে এসসি-এসটি বিল পেশ না হওয়ার জন্য শাসক দল তাঁকে কাঠগড়ায় তুলেছে। শুধু তাই নয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তাঁর অপসারণের দাবি জানিয়েছে। তাই নিজেকে সঠিক প্রমান করতে বাংলার ৫৮ জন সাংসদকে চিঠি দিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। তাঁর এর চিঠিকে শাসক দলের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে দেখছে বিরোধীরা।

এসসি- এসটি বিল আটকে যাওয়ায় মঙ্গলবার রাজ্যসভায় রাজ্যপাল ধনকড় এর বিরুদ্ধে তুমুল বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল এমপি’রা। এমনকি ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখানোর পর ওয়াকআউট পর্যন্ত করেন তাঁরা। এর আগেও অবশ্য রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে দুই কক্ষের তৃণমূল সাংসদরা রাজধানীতে তাঁদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। কিন্তু রাজ্যপালও ছাড়ার লোক নন।বিলটি তিনি কেন বিধানসভায় পেশের জন্য এখনও অনুমোদন দেননি, সেব্যাপারে দলমত নির্বিশেষে বাংলা থেকে নির্বাচিত লোকসভা ও রাজ্যসভার ৫৮ জন সদস্যকে বিস্তারিত তথ্য সহ চিঠি লিখেছেন।

বুধবার রাজ্যপালের তরফে লোকসভার ৪২ জন এবং রাজ্যসভার ১৬ জন সদস্যকে ই-মেল মাধ্যমে পাঠানো চিঠিতে মঙ্গলবার বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যেপাধ্যায়কে দেওয়া বার্তার কপিও। উল্লেখ্য, তফসিলি জাতি ও উপজাতি সংক্রান্ত তিনটি বিল রাজভবন অনুমোদন দেয়নি বলে ৩ ডিসেম্বর অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, ৪ ও ৫ ডিসেম্বর বিধানসভার অধিবেশন স্থগিত থাকবে। বিধানসভার অধিবেশনেই অধ্যক্ষ জানিয়ে দেন, সরকারের তরফে তিনটি বিল রাজ্যপালের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু একটিতেও অনুমোদন দেয়নি রাজভবন। ফাইলগুলি সেখানেই পড়ে রয়েছে। এরপরই রাজভবনের তরফে পাল্টা বিবৃতি জারি করে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, রাজভবন কোনও বিল আটকে রাখেনি। বিলগুলি যাতে দ্রুততার সঙ্গে অনুমোদন দেওয়া যায় তার জন্য অগ্রাধিকার দিয়েই কাজ করা হয়েছে।

কিন্তু যে দফতরের বিল, সংশ্লিষ্ট দফতরের থেকে প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য চাওয়া হয়েছিল। তারা সেই তথ্য দিতে দেরি করাতেই এই বিলম্ব বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। জানা গিয়েছে, এসটি-এসসি কমিশন ও শিক্ষা সংক্রান্ত তিনটি বিল অনুমোদনের জন্য রাজভবনে পাঠানো হয়েছিল। এরপরই রাজ্যের বিধানসভা থেকে লোকসভা, রাজ্যসভা-সর্বত্র এসসি-এসটি বিল নিয়ে রাজ্যেপালের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে তৃণমূল। মঙ্গলবার রাজ্যপাল বিধাসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখে বলেন, বিলটি নিয়ে তাঁদের মধ্যে যা কথা হয়েছে সেটা বিধানসভায় জানাতে। কিন্তু সরকার পক্ষ তা মানতে চাইনি। তাই রাজ্যপাল নিজে দায়িত্ব নিয়েই শাসক-বিরোধী শিবিরকে বিষয়টি জানালেন।

বাংলার সাংসদদের লেখা চিঠিতে রাজ্যপাল বলেছেন, “আমি এই সব তথ্য আপনাদের গোচরে আনা প্রয়োজনীয় বলে মনে করেছি। রাজ্যপাল হিসেবে আমি সর্বদা আন্তরিকভাবে এবং দ্রুততার সঙ্গে কাজ করছি। পরিষদীয় বিষয়েও আমার অবস্থান একই। রাজ্য সরকারের ক্ষেত্রেও এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অনুরূপ জরুরি মনোভাব এবং দ্রুত গতি কাম্য। তাদের এই করণীয় পালনের জন্য রাজ্য সরকারের উপর আপনারাও সার্বিক চাপ তৈরি করবেন বলে আশা করি।” তৃণমূলের তরফে এদিন এব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। তবে বিজেপির এমপি’রা অনেকেই বলেন, রাজ্যপালের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ায় সুবিধা হল। তৃণমূল এরপর সংসদে এই ইস্যুতে হল্লা করলে এলে সব তথ্য সামনে এনে তাদের পাল্টা চাপে ফেলা যাবে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ