কলকাতা: দুর্গাপুজোর কার্নিভালে আমন্ত্রিত ছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। কিন্তু তাঁকে সেখানে অপমান করা হয় বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। এবার সেই প্রসঙ্গেই ফের একবার মুখ খুললেন তিনি। রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করতে গিয়ে ঔরঙ্গজেবের সঙ্গে তুলনা করেন তিনি।

India Today-র একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে ধনকড় বলেন, তাঁর সঙ্গে যে ব্যবহার করা হয়েছে, সেরকম ব্যবহার শিবাজীর সঙ্গে করেছিলেন ঔরঙ্গজেব। তিনি জানিয়েছেন লাই অনুষ্ঠান দেখতেই পাননি তিনি। তাঁর সামনে দাঁড়িয়েছিলেন অন্তত ২০-২৫ জন।

তবে তিনি যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যাবকে ঔরঙ্গজেব বলেননি, অনুষ্ঠান শেষে সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘বাংলার আয়রন লেডিকে আমি ঔরঙ্গজেব বলিনি।’ তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে যা করা হয়েছে, তা আর কোনও রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানের সঙ্গে করা হয় না। চার ঘণ্টা ধরে আমি বসেছিলাম। পুরো অনুষ্ঠানটা লাইভ হল। রাজ্যের সংবাদমাধ্যমগুলি সেটা লাইভ করছিল। চার সেকেন্ডের জন্যও রাজ্যপালকে দেখানো হয়নি।’

এবছর ১১ অক্টোবর রেড রোডে আয়োজিত হয়েছিল বিসর্জনের কার্নিভাল। রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ও আমন্ত্রিত ছিলেন সেখানে। বারবারই একাধিক ইস্যুতে রাজ্য সরকারের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। কিন্তু তার জন্য রাজ্যপালকে আমন্ত্রণ জানাতে পিছপা হয়নি রাজ্য সরকার। আমন্ত্রণে সাড়া দিতেও কার্পণ্য করেননি রাজ্যপাল।

কার্নিভাল নির্বিঘ্নেই মিটেছিল। সেদিন রাজ্যপালের থেকে কোনও বিরূপ প্রতিক্রিয়া মেলেনি। কিন্তু দিন চারেক পরে বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া দিয়েচিলেন রাজ্যপাল। তাঁকে অপমান করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ছবি সচেতন ভাবেই না দেখানোর যে অভিযোগ রাজ্যপাল তোলেন, তাতে আসলে যে রাজ্য সরকারকেই কাঠগড়ায় তোলা হয়, সে কথা বুঝতে কোনও পক্ষেরই অসুবিধা হয়নি।

তাঁকে যে ভাবে ‘ব্ল্যাক আউট’ করা হয়েছে, তা ‘জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি’ বলেও উল্লেখ করেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়।

mamataতিনি বলেছিলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গ হল সংস্কৃতির পীঠস্থান। সেখানে এক জন সাংবিধানিক পদাধিকারীকে যে ভাবে অপমান করা হল, তাতে পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতিকেই অপমান করা হল। এটা শুধু আমার অপমান নয়, এটা পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেকটা মানুষের অপমান।’’ তাঁর পর্যায়ের এক জন পদাধিকারীর সঙ্গে যে ‘ব্যবহার’ করা হয়েছে, সে রকম কোথাও কখনও হয়নি— দাবি ধনকড়ের।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও