আলিপুরদুয়ার: সারা বছর ধরে এই সময়টার দিকেই তাকিয়ে থাকে বাংলা ঢাকিরা। যদিও সারাবছরই ছোটখাটো বায়না চলে। কিন্তু দুর্গাপুজো ঘিরে ঢাকিদের চাহিদাই আলাদা। পুজো আসতে আর হাতে গোনা কয়েকটা দিন বাকি। শরতের হাওয়া বইতে শুরু করেছে ভুবনে। আকাশে সাদামেঘ। চারদিকে ফুটে উঠেছে সাদা কাশফুল।

এমন সময় ঢাকিদের চাহিদা তুঙ্গে। কোচবিহার থেকে জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি থেকে হলদিবাড়ি উত্তরবঙ্গের ঢাকিরা এখন ব্যস্ততার শীর্ষে। সালসলাবাড়ির ঢাক বাদক বিল্টু দাস বলেন, “আমার গুরু ছিলেন বিখ্যাত ঢোল বাদক বলরাম হাজরা। তিনি আমাকে হাতে ধরে ঢাক-ঢোল বাজানো শিখিয়েছেন। পরে আমি ঢাক বাজানোকে জীবিকা হিসেবে গ্রহণ করি। পুজোর সময় জীবীকার টানে বাইরে বাইরে থাকতে হয়। তাই পুজোর কয়েকটা দিন পরিবারকে সময় দেওয়া হয় না। পুজো শেষে ফিরে আসি বাড়িতে।”

পুজোর মুখে ঢাক সারাই করাতেও ব্যস্ত বহু ঢাকি। ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে ঢাক সাজানোর পরিকল্পনা। নতুন চামড়া লাগিয়ে, মসৃণ কাঠি বানিয়ে ঢাককে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে আগেভাগেই। আর ক’দিন পরেই শুরু হয়ে যাবে ঢাক বাজানোর খেলা। দশমীর শোভাযাত্রা পর্যন্ত ঢাকে ঢাকে বেজে উঠবে ঢাকির জীবন।

এবার বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির কারণে চিন্তায় ছিলেন উত্তেরবঙ্গের বড় বড় পুজো কমিটির সদস্যরা। তবে বৃহস্পতিবার থেকে আকাশের মুখে হাসি ফুটেছে বলে কিছুটা হলেও স্বস্তি পুজো কমিটির সদস্যদের। এখন চলছে মণ্ডপ সাজানোর ব্যস্ততা। আর কিছুদিন পরেই মা আসবেন বাড়িতে।