ঢাকা: সাংবাদিকতা এবং গণজ্ঞাপন বিভাগের প্রধানকে হত্যার হুমকি দিয়ে এল চিঠি। প্রেরক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)।

শুধু চিঠি নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের অফিসিয়াল মেইল আইডি-তেও এসেছে হুমকি মেইল। যেখানে মৃত্যুর জন্য প্রস্তত থাকতে বলা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা এবং গণজ্ঞাপন বিভাগের প্রধান কাবেরি গায়েনকে।

আরও পড়ুন- ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষার্থে রাষ্ট্রপতি ভবনে বন্ধ ইফতার পার্টি

কাবেরি দেবীকে উদ্দেশ্য করে হাতে লেখা চিঠি প্রথম আসে চলতি সপ্তাহের সোমবারে। যদিও সেই বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক অবস্থায় তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেননি। কারণ এর আগেও একাধিকবার তিনি হুমকি চিঠি পেয়েছিলেন। তাঁর মতে, “এই ধরনের হুমকি চিঠি আমি আগেও অনেকবার পেয়েছি। তাই এগুলো নিয়ে বেশি মাথা ঘামায়নি।”

সাংবাদিকতা এবং গণজ্ঞাপন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানকে হত্যার হুমকি দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরে তৎপর হয় বিস্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কাবেরি দেবীকে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে। কার্যত সেই চাপেই মঙ্গলবার বিকেলের দিকে শাহবাগ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন অধ্যাপিকা কাবেরি গায়েন।

আরও পড়ুন- কলকাতার রাস্তায় নমাজ আর নয়, বলছে আরএসএস

চিঠির নিচে জেএমবি লেখা থাকলেও ঠিক কে সেই চিঠি পাঠিয়েছে তা বোঝা যায়নি। চিঠিতে কোনও ঠিকানা লেখা ছিল না। সমগ্র ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে শাহবাগ থানার পুলিশ।

অন্যদিকে, সোমবারেই সকালে ইমেইল করেও কাবেরি দেবীকে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়। এক্ষেত্রেও প্রেরক সেই জেএমবি। যাদের নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের মেইল আইডি-তে আসে সেই হুমকি মেইল। যেখানে ইংরেজিতে লেখা ছিল, “সাবধান ডাঃ কাবেরি গায়েন, পোস্তগোলা সমাধিতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হন। আমরা আপনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।”

এই প্রাণে মেরে ফেলার একাধিক হুমকির বিষয়ে অধ্যাপিকা ডাঃ কাবেরি গায়েন বলেছেন, “কারা কী উদ্দেশ্যে এসব চিঠি পাঠাচ্ছে আমি তা জানি না। আগে হত্যার হুমকি দিয়ে বাইরে থেকে চিঠি এসেছে, এখন একদম বিভাগের মেইলবক্সে! তবে এসব চিঠিতে আমি ভীত নই। ভীত হলে আমি বিশ্ববিদ্যালয়েই আসতাম না। আমি চাই যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি ভালোভাবে তদন্ত করে দেখুক।”

গত কয়েক বছরে বহুবার মারাত্মক ধরেন্র সন্ত্রাসের সাক্ষী থেকেছে বাংলাদেশ। সব ক্ষেত্রেই জঙ্গিদের নিশানায় ছিলেন সমাজের শিক্ষিত সমাজের মানুষ।