ঢাকা: পিছিয়ে যেতে পারে ঢাকা মহানগর পুর নিগমের ভোট। দেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের সরস্বতী পুজোর দিন ভোট গ্রহণের দিন ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক।

খোদ ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, ইসি চাইলে পূজার দিন নির্বাচন পিছিয়ে দিতে পারে।

এর পরেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে আলোড়ন পড়ে। মনে করা হচ্ছে আগামী ৩০ জানুয়ারি সরস্বতী পুজোর দিন ঢাকা সিটি কর্পোরেশন বাতিলের সম্ভাবনা বাড়ল। যদিও ভোটের দিন বাতিলের আবেদন আদালতে খারিজ হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের প্রতিক্রিয়া: নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের দাবিতে সহমত জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তাই, তারিখ পরিবর্তনের সিদ্ধান্তও ইসির নেওয়ার জরুরি।’

আমরণ অনশন: এদিকে ভোটের দিন বাতিলের দাবিতে টানা অনশন আন্দোলন চলছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সংখ্যালঘু পড়ুয়ারা আমরণ অনশন করছেন। অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ফলে নির্বাচন ঘিরে বিতর্ক চরমে।

হিন্দু মহাজোটের হুঁশিয়ারি: সরস্বতী পুজো ও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন একই দিনে হওয়ায় নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। তারা জানায়, ভোট অন্য কোনও দিন হলে তারা অংশ নেবে।

বিএনপি প্রার্থীও চান তারিখ পাল্টাক: ভোটের তারিখ পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দাবি মেনে নেওয়া উচিৎ।

আওয়ামী লীগ সাংসদের প্রতিক্রিয়া: সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথ বলেন, ‘আমি মনে করি, সরস্বতী পূজার দিন ভোটের তারিখ রাখা একটি ষড়যন্ত্র। কারণ হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা নৌকায় (আওয়ামী লীগের প্রতীক) ভোট দেয়। তাদের ভোটের দিন পূজায় ব্যস্ত রাখা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাহী আদেশ অথবা আপিল বিভাগের রায়ের মাধ্যমে ভোটের তারিখ পরিবর্তন করা যেতে পারে।’

প্রথম বিদেশমন্ত্রীও পুজোর দিন ভোটের বিরুদ্ধে: পুজোর দিনে ভোটের বিরোধিতা করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও বাংলাদেশের প্রথম বিদেশমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন। গত বুধবার তিনি বলেন, ‘স্বরস্বতী পূজার দিনে এটা করা সরকারের একটা অন্যায় কাজ হয়েছে।

ইসলামি সংগঠনও পুজোয় ভোট চায়না: পুজোর দিনে ভোট দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় বলে মন্তব্য করেছে ‘ ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন’। চরমোনাই পীরের নেতৃত্ত্বাধীন সংগঠনটির তরফে নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টিতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার দাবি জানানো হয়।