ঢাকা: আশঙ্কা করা হয়েছিল নিহতের সংখ্যা বাড়বে৷ সেই আশঙ্কা সত্যি করেই ঢাকার অভিজাত এলাকা বনানীর বহুতলে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু সংবাদ এসেছে৷ পুলিশ জানিয়েছে, ২৪ জনের মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে শনাক্ত শেষে মরদেহগুলো তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরিচয় জটিলতার কারণে একটি মরদেহ এখনও হস্তান্তর করা হয়নি। আহত ও দগ্ধ হয়েছেন অন্তত ৭০ জন।

বৃহস্পতিবার বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউতে ফারুক রূপায়ণ (এফ আর) টাওয়ারে আগুন লাগে৷ পরিস্থিতি এমন হয় যে সেনাবাহিনীকে নামিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু হয়৷ বিমানবাহিনীর বিশেষ কপ্টারও নামে এই কাজে৷ দিনভর আসতে থাকে একের পর এক মৃত্যু সংবাদ৷ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দমকল কর্মীরা পুনরায় অভিযান শুরু করেন।

বৃহস্পতিবার ছিল ভয়াবহ দৃশ্য৷ আগুন ধরে যাওয়া ভবন থেকে অনেকে লাফিয়ে পড়েন৷ কেউ কেউ দড়ি ধরে নিচে নেমে আসেন৷ ভিতরে একাধিক বহুজাতিক সংস্থার কার্যালয় থাকায় অনেক কর্মীও সেখানে আটকে পড়েন৷ আর বাইরে থাকা বহু মানুষ উৎকণ্ঠায় প্রতীক্ষা করছিলেন৷ ঢাকা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, সাড়ে ছয় ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নেভানোর পর রাত থেকে তল্লাশি করা হয়েছে।
বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড হয়েছে৷ সম্প্রতি তেমই একটি ঘটনায় ঢাকাতেই অনেকের মৃত্যু হয়৷ এরপর হল অভিজাত এলাকা বনানীর আর এফ টাওয়ারে আগুন ধরে যাওয়ার দুর্ঘটনা৷

অন্যদিকে ভবনটির অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থার ত্রুটি উঠে এসেছে৷ শুক্রবারে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ‘গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী’ শ. ম. রেজাউল করিম৷ তিনি বলেন বনানীর এফআর টাওয়ারের নকশা ও ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া সরকারি কর্মকর্তাদের খোঁজ চলছে৷ আমরা তথ্য পেয়েছি এই ভবনটি ১৮ তলা নির্মাণের জন্য প্ল্যান পাশ হয় ১৯৯৬ সালে। কিন্তু ২০০৫ সালে এসে ভবন মালিক কর্তৃপক্ষ একটা কপি দাখিল করেন যে, ভবনটি ২৩ তলা হয়েছে। কেন এমন করা হল তা জানতে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷