প্রসেনজিৎ চৌধুরী: বাংলাদেশে জঙ্গি নাশকতার নতুন প্রয়োগভূমি করতে মরিয়া আল কায়েদা, ইসলামিক স্টেট সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন। স্থানীয় জেএমবি, নব্য জেএমবি, হুজি-বি ও আরও কিছু উগ্র ধর্মীয় সংগঠন এই কাজে সরাসরি অংশ নিচ্ছে। তারই ভয়ঙ্করতম প্রমাণ, ২০১৬ সালের ১-২ জুলাই- রক্তাক্ত ৪৮ ঘণ্টা।

রমজানের মাসে ইফতারের খাওয়া-দাওয়া চলার সময় ঢাকার অভিযাত এলাকা গুলশনের হোলি আর্টিজান ক্যাফের ভিতর হামলা করেছিল ইসলামিক স্টেট বা আইএসের অনুগামী বাংলাদেশি যুবকরা়।

সেই নাশকতায় মৃত্যু হয় যে ২৪ জন পণবন্দির, তাদের পরিবার আজ অপেক্ষায় ধৃতদের ফাঁসির রায় শুনতে। উপমহাদেশের ভয়ঙ্করতম জঙ্গি হামলার রায় জানতে মুখিয়ে ইতালি থেকে নয়াদিল্লি। চরম শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার তথা রাষ্ট্রপক্ষ।

হোলি আর্টিজান ক্যাফে হামলার এই মামলায় ৩ বছর-৪ মাস-২৬ দিন পর রায় দেবে ঢাকার সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। বিচারক মহ. মজিবুর রহমান রায় ঘোষণা করবেন। হামলার দিন ২৪ জন পণবন্দিকে কুপিয়ে-গুলি করে খুন করা হয়। মৃত বিদেশি নাগরিকদের এই তালিকায় রয়েছে ইতালি, জাপান ও ভারত। ঢাকার দূতাবাস থেকেও প্রতিনিধিরা শুনতে যাবেন।

ঢাকার হোলি আর্টিজান কাফের ভিতর ইফতার অনুষ্ঠানে আইএস হামলায় মৃত্যু হয় ২৪ জনের। এই তালিকায়- ৯ জন ইতালির, ৭ জন জাপানি, ৭জন বাংলাদেশি, ১ জন ভারতীয়।

অপারেশন থান্ডারবোল্ড-

২০১৬ সালের ১ জুলাই হামলার পরেই বাংলাদেশ তো বটেই আন্তর্জাতিক মহল আলোড়িত হয়।

জঙ্গিদের খতম করতে বাংলাদেশ সরকার শুরু করে কমান্ডো অভিযান- অপারেশন থান্ডারবোল্ড।

টানা ৪৮ ঘণ্টা ধরে অভিযানে হামলাকারী ৫ জঙ্গি খতম হয়। এক জাপানি ও দুই শ্রীলংকান সহ ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

হামলায় জড়িত ৫ জঙ্গিকে নিকেশ করে বাংলাদেশ কমান্ডোরা।

নিহত জঙ্গিদের নাম- রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল।

আরও পরে ৮ জনকে বিভিন্ন জঙ্গি ডেরায় খতম করা হয়েছে-আহমেদ চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, তানভীর কাদেরী, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম ওরফে মুরাদ, রায়হান কবির তারেক, সারোয়ার জাহান মানিক, বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান।

ধরা পড়েছে,জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, রাকিবুল হাসান রিগান, রাশেদুল ইসলাম ওরফে র‌্যাশ, সোহেল মাহফুজ, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, হাদিসুর রহমান সাগর, শহীদুল ইসলাম খালেদ ও মামুনুর রশিদ রিপন।

এই ৮ জনের চরম শাস্তির অপেক্ষায় বিশ্ব। বুধবার রায়-গুলশন হামলার রায়।