নয়াদিল্লি: চেনা ছবিটা দেখা যায় জুলাই অগাস্ট মাসে৷ তবে এবছর একটু আগেই দেখা গেল অমরনাথের শিবলিঙ্গের ছবি৷ কিছু দর্শনার্থীর দাবি তাঁরা এপ্রিল মাসের চতুর্থ সপ্তাহেই সেই পবিত্র স্থান দর্শন করেছেন তাঁরা৷ বছরের প্রথম অমরনাথ শিবলিঙ্গের ছবিও তুলে এনেছেন সেই সব পুণ্যার্থীরা৷

দর্শনার্থীদের দাবি এই শিবলিঙ্গ অন্যান্য বছরের তুলনায় আকৃতিতে বড়৷ প্রায় ১০-১৫ ফুট উঁচু বরফের এই শিবলিঙ্গের ছবি নজর কেড়েছে দরকার৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ছবি শেয়ার করেছেন এক দর্শনার্থী৷ ছবিগুলি দেখে দিন চারেক আগের তোলা বলে মনে করা হচ্ছে৷

ফাইল ছবি

যে দর্শনার্থী ওই ছবিগুলি তুলেছেন, তিনি জানান জনা আটেক পর্যটকের দল ২০ থেকে ২৫ এপ্রিল অমরনাথ যাত্রা করেন৷ যা এবছরের প্রথম অমরনাথ যাত্রা বলেই মনে করা হচ্ছে৷ তবে শ্রী অমরনাথজী শ্রাইন বোর্ডের তরফ থেকে এই যাত্রা সম্পর্কে কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি৷

এবছর ৪৬ দিনের যাত্রা এবছর পয়লা জুলাই থেকে শুরু হবে বলে খবর৷ অনন্তনাগ জেলার পাহালগাম থেকে একটি রুট ও গাণ্ডেরবাল জেলার বালতাল থেকে আরেকটি রুটে যাত্রা শুরু হবে৷ দোসরা এপ্রিল থেকে অমরনাথ যাত্রার নাম নথিভুক্তকরণ শুরু হয়েছে৷

নতুন ছবি

পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক, জম্মু কাশ্মীর ব্যাংক ও ইয়েস ব্যাংকের নির্ধারিত কিছু শাখা থেকে নাম নথিভুক্ত করা যাচ্ছে৷ বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবছর প্রতিদিন সাড়ে সাত হাজার যাত্রী দুটি রুট ধরে যাত্রা করতে পারবে৷ নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত বলে খবর৷ ১৩ বছরের নীচে কোনও শিশু, ৭৫ বছরের ওপরে বয়স্ক মানুষ ও ৬ সপ্তাহের গর্ভবতী মহিলা এই যাত্রা করতে পারবেন না বলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে৷

২০১৮ সালে দুর্ঘটনার জেরে যাত্রা বন্ধ করে দেওয়া হয় অমরনাথে৷ তবে ঘটনার তৃতীয় দিন থেকে পহেলগাঁও রুটে শুরু হয় যাত্রা৷ পাহাড়ে ধসের কারণে বন্ধ হয়ে যায় যাত্রী চলাচল৷ দুটি রুটেই নিরাপত্তার কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয় অমরনাথ যাত্রা৷
পরে রাস্তা ধীরে ধীরে খোলা হয় পহেলগাঁও রুটে৷ পাথর সরিয়ে রাস্তা পরিস্কার করে যাত্রী চলাচলের যোগ্য করা হয়৷ তবে খুব সাবধানে ও সতর্কতার সাথে যাত্রীদের নিয়ে যাওয়া হয়৷ কারণ আবহাওয়া তখনও প্রতিকৃল ছিল৷ টানা বৃষ্টি সঙ্গী পুণ্যার্থীদের৷ ফলে ধসের আশঙ্কা তখনও ছিল৷

ফাইল ছবি

বালতাল যাওয়ার পথে ব্রারিমার্গে বিরাট ধস নামে৷ মৃত্যু হয় পাঁচজনের৷ আহত তিনজন৷ আহতদের সেনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ সন্ধ্যে ছ’টা নাগাদ আবহাওয়া অত্যন্ত খারাপ হয়ে পড়ে৷ শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি৷ তার জেরেই বালতালের চারটি জায়গায় ধস নামে৷ এরমধ্যে তিনটি ধস বালতাল ক্যাম্প এলাকাতেই হয়৷ কিন্তু সেখানে হতাহতের কোনও খবর মেলেনি৷

অমরনাথযাত্রীদের পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ রেল পথরিতে একটি ভয়াবহ ধস নামে৷ উপর থেকে মাটি ও পাথর ধসে পড়তে শুরু করে হঠাৎই৷ সেই মাটির নিচেই চাপা পড়ে যান বহু অমরনাথযাত্রী৷ সেনা ও এনডিআরএফ-এর যৌথ অভিযানে মাটি চাপা পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়৷