লিখলেনঅনিন্দিতা মাইতি নন্দী: ইন্দ্রের নৃত্যসভা, চলছে উর্বশীর নাচ। মুগ্ধ নৃত্যদদুলছন্দে সব-দেবতারা, গজগতিছন্দে চলছে অপূর্ব নৃত্যশৈলী। এমন সময় সভামধ্যে নারদমুনির আগমন – নৃত্যে ছন্দপতন। নারদ খানিকটা উদ্বিগ্ন মুখে প্রবেশ করেছেন।

লিখলেন- অনিন্দিতা মাইতি নন্দী
লিখলেন- অনিন্দিতা মাইতি নন্দী

বিষ্ণু জিজ্ঞেস করলেন – কি ব্যাপার!! এত চিন্তান্বিত কেন? আপনার সুমধুর কণ্ঠের গান কতদিন শোনা হয়নি। এবার নারদমুনি প্রায় ভগ্নকণ্ঠে বললেন, কী করে গলাতে গান আসবে? দেবরাজ – আপনার অবগতির জন্য জানাই, — আমি এই মুহূর্তে মর্তবাসীর কাছ থেকে স্বর্গে এলাম এইজন্যে – যে মর্তবাসীরা দেবতাদের প্রতি অতিশয় রুষ্ট হয়ে রয়েছে, তারা সমস্ত দেবদেবীর পূজার্চনা বন্ধ করে দিয়েছে।সমস্ত মন্দিরদ্বার বন্ধ।

মন্দির ধোয়া-মোছা, পুরোহিত- পুজাপাট সব বন্ধ। মর্তবাসীরা বলছে দেবতারা তাদের এতদিন মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দেবরাজ, ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বরসহ সমগ্র দেবকূল তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি। মর্তবাসীদের বিশ্বাস ছিল তাদের সমস্ত বিপদ দূর করেন দেবতারা।

দেবতাদের পূজার্চনা করলে তারা সমস্ত বিপদ থেকে উদ্ধার পাবেন। কিন্তু আজ যখন মর্তে ভয়ঙ্কর ভাইরাস করোনা সারা-বিশ্ব গ্রাস করছে তখন সৃষ্টিকর্তা প্রজাপতি আজ কোথায়? কেন তিনি স্বর্গে লুকিয়ে রয়েছেন? আজ সমস্ত মনুষ্যজাতি সঙ্কটের মধ্যে নিরন্তর লড়াই করছে ভয়ংকর ভাইরাস করোনার সাথে।

আর এই অসম লড়াইতে একমাত্র নিরন্তর নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন সাদা পোশাকপরা কর্তব্যরত ডাক্তার, নার্সরা। দেবরাজ – মর্তবাসীরা এও বলছে আজ এই চরম বিপদে তাদের বিপদত্তারণ হিসাবে যদি মনুষ্যরাই মনুষ্যদের সাহায্য করে তাহলে দেবতাদের কিবা প্রয়োজন? পূজা যদি করতেই হয় তাহলে তারা এই ডাক্তার নার্সদেরই দেবতারূপে পূজা করবেন।

মর্তবাসীদের এও বিশ্বাস জন্মেছে যে একমাত্র প্রতিষেধক আবিষ্কার হলেই এই করোনা রোগকে পরাস্ত করা সম্ভব। তাই দেবতারে না পূজে তারা বিজ্ঞান সাধনায় মনোনিবেশ করবে। হে দেবাদিদেব আপনি বলুন – মর্তবাসীরা যদি এইরূপ আচরণ করে তবে-তো দেবতাদের সংকটকাল শীঘ্রই উপস্থিত হবে।

এর তো আশু প্রতিকার প্রয়োজন। দেবাদিদেব মহেশ্বর সব শুনে বললেন—দেবতারা, সবাই মিলে পরামর্শ করি,- কিভাবে আমরা মর্তবাসীর মনে আবার নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হবো।

হেনকালে বিষ্ণু বললেন, — মহামুনি, মর্তবাসীরা আর কি কি আলোচনা করছে? ওরা কি সত্যিসত্যি আমাদের ওপর আস্থা হারিয়েছে? আমাদের সব মাহাত্ম্য কি ওরা ভুলে গেছে? নারদ সকাতরে বললেন, হে বিষ্ণু কি আর বলবো লজ্জার কথা, মর্তবাসীরা ওই মাহাত্ম্য-কাহিনীকে অবমাননা করছে।

ওরা তো বলছে চন্ডীমঙ্গল, মনসামঙ্গল, কমলেকামিনী কিংবা মহিষাসুরমর্দিনী এইগুলো বরং ওদের শুধু পাঠ্যপুস্তকেই বন্দী থাক। বাস্তব জীবনে বরং ওদের বিজ্ঞানশাখায় পারদর্শী হওয়ার সময় উপস্থিত। মহাদেবের ত্রিনয়ন জ্বলে উঠল রাগে – বললেন কী এত স্পর্ধা, আমাদের অবজ্ঞা!!

বিষ্ণু ধীরভাবে সমস্ত দেবতাদের দিকে উদ্দেশ্য করে বললেন আমাদের মধ্যে বিজ্ঞানের দেবতা যিনি তাকে আহ্বান করুন। সভামধ্যে এলেন একমাত্র বিজ্ঞানের দেবতা বিশ্বকর্মা। তিনি বললেন আমি তো শুধু নির্মাণকার্য সম্পন্ন করি। করোনা ভাইরাস প্রতিষেধক আবিষ্কার তো আমার কার্য নয়।

এবার শ্বেতশুভ্রবসনা মা সরস্বতীকে আহ্বান করা হল – সরস্বতী সব শুনে বললেন আমি বিদ্যার দেবী। সকল মর্ত্যবাসীকে আমি বিদ্যা-প্রদান করি। বলুন আমায় কি করতে হবে। এবার দেবরাজ ইন্দ্র করজোড়ে বললেন, হে বিদ্যার দেবী আপনি দয়াকরে এবার মর্তে যান – দেখুন মর্তবাসীদের সাথে কথা বলে। এবার সরস্বতী, লক্ষীদেবী ও নারদ তিনজনে চলেছেন ছদ্মবেশে মর্ত্যলোকে মর্তবাসীদের কাছে। মর্তধামের পথে দেবর্ষি নারদ, দেবী লক্ষ্মী ও সরস্বতী তিনজন রওনা হলেন।

পথে বাকদেবী মহামুনি নারদকে প্রশ্ন করলেন, – দেবর্ষি আপনি আমাদের সবিস্তারে এই ভয়ঙ্কর করোনা রোগটি সম্পর্কে কিছু অবহিত করুন। মর্তে পৌঁছানোর পূর্বেই রোগটি সম্পর্কে জ্ঞাত হলে সুবিধে হয়। দেবর্ষি বললেন মাতা, আমি যেটুকু জানি , -এই রোগটি সারা-বিশ্বকে গ্রাস করেছে, অতীব সংক্রামক। সমস্ত মনুষ্যকুলকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হচ্ছে। তাদের সকলের মুখ মাস্ক দ্বারা পরিবেষ্টিত।

এতই সংক্রামক যে সমস্ত–বিশ্ব আজ স্তব্ধ হয়ে রয়েছে। বাকদেবী বললেন – তা তো বুঝলাম কিন্তু করোনা অসুখটি ছড়াচ্ছে কে? নারদ করজোড়ে বললেন ,– মাতা, এই রোগটি একটি ক্ষুদ্র ভাইরাস ছড়াচ্ছে। লক্ষ্মীদেবী বললেন,– দেবর্ষি তবে তো দেবরাজ ইন্দ্রকে প্রয়োজন। ওনার বজ্রাঘাতে এরা নির্মূল হতে পারে।

দেবর্ষি করজোড়ে বললেন, ক্ষমা করবেন দেবী এটি একটি ক্ষুদ্র ভাইরাস যা অদৃশ্য কেবলমাত্র শক্তিশালী কোন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে একে দেখা যায়। বজ্রাঘাতে এরা নির্মূল হবে না।

লক্ষ্মীদেবী বললেন – তাহলে দেবর্ষি আমরা পবনদেবকে স্মরণ করতে পারি – প্রবল বায়ুপ্রবাহে উনি ভাইরাসগুলোকে সমুদ্রগর্ভে পাঠিয়ে দিতে পারেন। তখন দেবর্ষি বললেন – আহা মাতা এ যে সংক্রামক ভাইরাস সমুদ্রগর্ভেও অমর, সমুদ্রগর্ভ থেকে আবার মর্তলোকে ফিরে আসবে।

দেবী কমলা তখন প্রবল ক্রূদ্ধ হয়ে বললেন তবে আমরা মহামতি বিষ্ণুর স্মরণাপন্ন হই, তাকে বলি সুদর্শন-চক্র দিয়ে এই ভাইরাসের গলা কাটতে। নারদ অতি বিষন্নস্বরে বললেন, মা কমলা – এ তো কোনো মনুষ্য নয় যে তাদের মস্তকছেদন করবেন ভগবান বিষ্ণু। এটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ভাইরাস – এর আচরণ, এর অবয়ব, মনুষ্য জাতির ন্যায় নয়।

বাকদেবী সরস্বতী এতক্ষন সব শুনছিলেন, এবার তিনি বললেন তাহলে এক কাজ করি আমরা দেবাদিদেব মহেশ্বরের স্মরণাপন্ন হই। তাঁকে বলি সমুদ্রমন্থনের সময় তিনি যেমন গরল পান করে নীলকণ্ঠ হয়েছিলেন, তেমনি এই ভয়ঙ্কর করোনা ভাইরাসকে তাঁর নীলকণ্ঠে ধারণ করে বিশ্বকে রক্ষা করুন। তাহলে সমগ্র মানবজাতি আবার আমাদের পূজার্চনা শুরু করবে।

এবার নারদমুনি সকাতরে করজোড়ে বললেন, মাতা আমার অপরাধ মার্জনা করবেন , আমি শুনেছি এই করোনা ভাইরাস একবার প্রবেশ করলে কণ্ঠমধ্যে স্ফোটনকাল কয়েকদিন সময় নেয় -অসংখ্য প্রতিরূপ (Replica) গঠন করে – কণ্ঠমধ্যে। দেবাদিদেব যদি কণ্ঠমধ্যে এই ভাইরাসদের গ্রহণ করেন তবে তো ভাইরাসগুলি ওখানেই ওদের স্ফোটনকাল কাটিয়ে তারপর সমগ্র দেবকুলকেই আক্রমণ করবে।

মাতা, এই ভাইরাস যমরাজকেও রেহাই দেবেনা। তাহলে উপায় কি দেবর্ষি?- লক্ষ্মীদেবী ব্যাকুল কণ্ঠে বললেন, –সরস্বতী,- চল আমরা স্বর্গে গিয়ে দেবী দুর্গাকে আহ্বান করি’। উনি জগৎজননী, মাতা-দূর্গা যেভাবে মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন সেই মহিষাসুরমর্দিনীরূপে প্রবল ত্রিশূলাঘাতে এই ভাইরাসকে মারণাস্ত্র প্রয়োগ করবেন।

দেবর্ষি নিজ কপালে চপেটাঘাত করে বললেন – হে মা জননী,— আমি কেমন করে আপনাদের বোঝাই যে- এই ভাইরাস করোনা কোন অসুর বা দানব বা মানব নয় যে বুকে মা জগৎজননী ত্রিশূলাঘাত করবেন। এই ভাইরাস প্রায় অপরাজেয় – অতি উষ্ণতায় বা অতি শীতলতায়ও নিজ কার্য করতে সক্ষম। এবার সরস্বতী বললেন, মহামুনি এই ভাইরাস যদি এতই শক্তিশালী, তাহলে দেবগন কেন আমাকে মর্তলোকে পাঠালেন?আমি তাহলে কি করে এই ভাইরাসকে পরাভূত করব?

নারদ বললেন,- মাতা যখন স্বয়ং ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর ও সমগ্র দেবকুল একত্রিত হয়ে আপনাকেই উপযুক্ত মনে করেছেন – তখন আমার বিশ্বাস মাতা কেবলমাত্র আপনিই পারেন -এর প্রতিকার করতে। আপনিই পারেন মনুষ্যজাতির মনে আবার দেবকুলকে প্রতিষ্ঠিত করতে।

কমলাদেবী বললেন, দেবর্ষি আপনি বলুন তবে মর্তধামে আমরা প্রথম কোন দেশে পদার্পণ করব? বিশ্বের সর্বত্রই করোনা প্রকোপে জর্জরিত অবস্থা- এমত অবস্থায় দেবর্ষি আপনার মতামত ব্যক্ত করুন।

নারদ মুনি প্রত্যুত্তরে বললেন, মাতা,- বিশ্বের বিত্তশালী দেশগুলি যেমন আমেরিকা, ব্রাজিল, ইতালি নিজেদের করোনা প্রকোপে বিধ্বস্ত হয়ে,- অবশেষে খানিকটা সামাল দিয়েছে কিন্তু ভারতবর্ষ নামক দেশটির এখনও প্রাণান্তকর অবস্থা। বাকদেবী বললেন, দেবর্ষি ভারতবর্ষেই চলুন তবে, আমরা তিনজনই সারা ভারতবর্ষের বিভিন্ন-প্রান্তে গিয়ে লক্ষ্য করি এদের কার্যকলাপ। নারদমুনিসহ বাকদেবী ও দেবী কমলা ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলেন।

বাকদেবী বললেন সবিস্ময়ে, এ কি? – অনেক মন্দিরে বিগ্রহের দ্বার তো খোলা, আরতিও চলছে – তবে যে দেবর্ষি বললেন- সমস্ত মন্দির ও পূজার্চনা বন্ধ!! কমলাদেবী, মন্দির পার্শবর্তী লোকজনদের সাথে কথা বলে অবগত হলেন যে মন্দির মাঝেমাঝেই খোলা হয়-তবে পুরোহিতসহ ভক্তবৃন্দ করোনা আক্রান্ত হলে আবার তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বাকদেবী বিষ্ময়ে বললেন-দেবর্ষি,- এটাতো কোনো চিরস্থায়ী সমাধান নয়- মাঝেমাঝে দেবতার পূজো হবে, মন্দিরের দ্বার খোলা থাকবে,-আমাদের তো এর প্রতিকারের ব্যবস্থা আশু নির্ণয় করা প্রয়োজন; নইলে সমস্ত ভক্তবৃন্দ যে আকুল আর্তিতে আমাদের পাদপদ্মে তাদের অন্তরের প্রার্থনা নিবেদন করছে, তা বিফলে গেলে, ওরা তো আমাদের ওপর চিরকালীন আস্থা হারিয়ে ফেলবে।

কমলাদেবী উত্‍কন্ঠায়- উদ্বিগ্নে বলেন- দেবর্ষি, এই মনুষ্যকুলে বেশীরভাগ লোকেরই কাজকর্ম হারিয়ে গেছে, তারা অভুক্ত থাকছে তবু দেবতাদের কাছে প্রার্থনা করছে,- করোনা প্রতিকার করতে!!! আমাদের সত্যিসত্যিই কিছু করা প্রয়োজন। দেবর্ষি, সকাতরে, দেবী সরস্বতী- সম্মুখে নতমস্তকে বলেন,- মাতা, আপনি স্বয়ং মনুষ্যকুলের কন্ঠে অধিষ্ঠান করেন সর্বদাই, তবু কেন সমগ্র ভারতবর্ষের তথা বিশ্বের মনুষ্যগণ এই করোনা প্রতিষেধক আবিস্কারে এখনও অসমর্থ?

আপনার স্তব করে, আশীর্বাদ-ধন্য নিরক্ষর কালিদাস যদি পরবর্তীকালে সফল সাহিত্যিক হন! আবার আইনস্টাইন, কার্ল ফ্রেডরিক গস, ইউক্লিড, ফার্মেট , ইউলার, নিউটন, রামানুজন, মাইকেল ফেরাডে, ডালটন, মাদাম-কুরী, বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, ওপেনহাইমার আর কত বলব মাতা!

এরা সবাই যদি আপনার বরপুত্র হন – তবে কেন মাতা আপনি এই করোনা সঙ্কটকালে এদের আবিস্কারে সহায়তা করছেন না? কেন মাতা এই দুঃসহ পরীক্ষা নিচ্ছেন সমগ্র মনুষ্যজাতির? বাকদেবী হাসলেন- বড্ড করুন-হাসি,—দেবর্ষি, আমি সমগ্র মানবজাতির কন্ঠে বিরাজ করি একথা যেমন সত্যি তেমন এটাও সত্যি আমি তাদেরই সহায়তা করতে পারি যারা নিজেদের সাহায্য করতে চায়।

কালিদাস তাঁর নিজস্ব প্রচেষ্ঠায়, নিরলস- পরিশ্রমের দ্বারা, নিজখ্যাতি অর্জন করেছিলেন- আমি শুধু সহায়তা করেছি। এই মনুষ্য জাতিকে প্রথমেই এটা অনুধাবন করতে হবে- শিক্ষাকে ভালবেসে ,জ্ঞানার্জন সাধনায়, তাদের নিজেদের আকণ্ঠ নিমজ্জিত করতে হবে। শুধু চাকুরী লাভের আশায় যে শিক্ষা, তা তো প্রকৃত কোন কাজে লাগে না।

মনুষ্যজাতিকে বিজ্ঞানকে ভালবেসে, বিজ্ঞান সাধনায় ডুব দিতে হবে। হে দেবর্ষি, সারা ভারত ঘুরে আমরাতো শুধু ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, আলিগলিতে কুসংস্কার আর নির্লজ্জ রাজনীতির সাধনা দেখতে পেলাম। সমগ্র বিশ্বেও ক্ষমতা-দখলের অসম লড়াই। শিক্ষার সর্বক্ষেত্রে অসম প্রতিযোগিতা। হে দেবর্ষি, শিক্ষার সর্বক্ষেত্রেই মেধাকে প্রাধান্য দিতে হবে। শুধু কপি পেস্ট করে তো বিজ্ঞানের গবেষণায় উন্নতি করা যায়না।

ইনোভেশন হারিয়ে গেছে শিক্ষার্থীদের। আন্তর্জাল (Internet) আর রঙিন ধ্বজাধরা স্বপ্ন দেখে হয়ত পরীক্ষায় পাশ করা যায়। কিন্তু বাগদেবীর প্রকৃত কৃপালাভ করতে গেলে আজ ইনোভেশন ও ইনভেনশন এর উপর আলোকপাত করতে হবে। প্রযুক্তি বিদ্যার দক্ষতাও জরুরি। সরস্বতী ও কমলা দুজনেই আমরা পরস্পরের পরিপূরক।

সবই-তো নিজেদের চক্ষে আমরা দেখলাম, এবার স্বর্গধামে ফেরার সময় উপস্থিত। আমরা ফিরে গিয়ে দেবলোকে আলোচনা করে সার্বিক সিদ্ধ্বান্ত জানাব –‘সমগ্র মনুষ্যজাতি’কে। স্বর্গে ফিরে-এসে সমস্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা দিলেন ত্রিদেব ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও দেবাদিদেব মহেশ্বরকে। দীর্ঘ আলোচনার পর- দেবগন স্বর্গলোক থেকে মর্তধামের উদ্দেশ্যে দৈববানী পাঠালেন,–ওহে মনুষ্যজাতি, তোমারই পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ জীব, তোমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই ‘নারায়ণ’ বিরাজমান।

আমরা দেবলোকবাসীরা প্রতীকরূপে পূজিত হই। তোমাদের অসাধ্য কিছু নাই। তোমরা অহেতুক ক্ষমতার দ্বন্দ্ব পরিত্যাগ করে, কুসংস্কার মুক্ত হয়ে ‘বিজ্ঞান’-এর শরণ নাও। একমাত্র ‘বিজ্ঞান’ ই তোমাদের এই মহামারী থেকে রক্ষা করতে পারে। ‘মেধা’ কে প্রধান্য দাও। ‘মেধা’ র জয়গান গাও। বিজ্ঞানের জয়গান গাও। তোমাদের চৈতন্য হোক।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।