কলকাতা: হাতে গোনা কয়েকদিন বাদেই মহালয়া। অর্থাৎ দেবীপক্ষের সূচনা হবে সেদিনই। মনে করা হয় সেদিনই কৈলাস থেকে বাপের বাড়ির পথে যাত্রা করেন দেবী দুর্গা। সঙ্গে থাকে চার ছেলেমেয়ে। তাই এদিন থেকেই বাঙালি ঘরে ঘরে সাজো সাজো রব। মেয়ে আসছে। তাই ঘরদোর গুছনোর পালা শুরু হয়ে যায়।

আসলে মহালয়া আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষ। কৃষ্ণপক্ষের শেষ অমাবস্যা তিথিতে এই শেষ দিনটিই হল মহালয়া। এই তিথিতে পিতৃপক্ষের শেষ। দেবীপক্ষের সূচনা। মহালয়ার সঙ্গে তথ্যগতভাবে দেবী পুজার কোন সংযোগ নেই। কিন্তু, একেবারেই দুটি তিথি বিচ্ছিন্ন নয়।

শেষে মহালয়ার দিন ভোরবেলা পূর্ব পুরুষদের স্মরণ করে আমরা বাঙালীরা তর্পন করি। পূর্ব পুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় পিন্ডদানও করা হয়ে থাকে। মহাভারতের সঙ্গেও মহালয়ার যোগ রয়েছে। দেবী দুর্গা পার্বতীর অবতার, বাঙালীর মননে মহালয়ার দিনই দেবী তাঁর দুই কন্যা ও দুই পুত্রকে সঙ্গে নিয়ে কৈলাস থেকে বাপের বাড়ীতে রওয়ানা দেন। ভিখারী শিবের গৃহ থেকে কিছুদিনের জন্য তাঁদের আদরের দুলালী দুর্গাকে নিয়ে আসা হউক। তাই মহালয়ার তিথিতে মা মেনকার সঙ্গে বাঙালীর মনও স্বস্তি পায়। তাই কন্যা আগমনের পূর্বে ঘর দুয়ার পরিস্কার রাখার প্রথা প্রচলিত আছে।

প্রাচীনকালের প্রথা অনুযায়ী পূর্বপুরুষকে পুজা অর্চনার মধ্য দিয়েই সমাজে ধর্মের উত্‍পত্তি হয়েছে। সেই প্রাচীনকালের পূর্ব পুরুষ অর্চনার স্মৃতি আজও আমরা বহন করে চলেছি এই বিশেষ পূন্য তিথিকে কেন্দ্র করে। পূর্ব পুরুষরা এই সময় পিন্ডাদি ও জল কামনা করে থাকেন। তাই এই বিশেষ পক্ষে বিধি মেনে শ্রাদ্ধকর্ম সম্পন্ন করলে শুভ ফল লাভ হয়। শ্রাদ্ধ শুধুমাত্র পিতৃপুরুষের অর্চনা নয়, শ্রাদ্ধকার্য পরম প্রীতিদান করে। যে ভক্ত নিষ্ঠার সাথে শ্রাদ্ধ সম্পন্ন করেন তার মঙ্গল হয়।

পুরাণ অনুযায়ী পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে শ্রাদ্ধ ও জলদান দেবী পুজারই একটি অঙ্গ। এদিকে তাই দেবী আরাধনার সঙ্গে মহালয়ার একটি যোগসূত্র আছে। পিন্ডদানে আত্মার মোক্ষ লাভ হয়।