কলকাতা:দেশের অর্থনীতিতে মন্দা থাকলেও রাজ্যের অবস্থা চাঙ্গা ৷ এমনটাই দাবি করেছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। সোমবার বিধানসভায় অর্থ বিলের জবাবি ভাষণে তিনি মনে করিয়ে দেন, একদিকে দেশে ব্যক্তিগত ভোগ্যপণ্যের ব্যবহার গত সাত বছরে সর্বনিম্ন অন্যদিকে গত জিডিপি ১১ বছরে সর্বনিম্ন ৷ তাছাড়া বিনিয়োগের অবস্থা ১৭ বছরে সর্বনিম্ন এবং উৎপাদন ১৫ বছরে সর্বনিম্ন ও মুদ্রাস্ফীতি গত ৬৮ মাসে সর্বোচ্চ বলে তিনি জানান। কিন্তু এই পরিস্থিতিতেও রাজ্যের অর্থনীতির অগ্রগতি হচ্ছে । উদাহরণ হিসেবে জানান, তাঁদের সরকার সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে বরাদ্দ বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াচ্ছে। পরিকাঠামো গড়া হচ্ছে মূলধনী ব্যয় বৃদ্ধি করা হচ্ছে বলে জানান।

অমিতবাবুর অভিযোগ, কেন্দ্র নানা ভাবে রাজ্যকে তার প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করছে। যেমন ২০১৯-’২০ অর্থবর্ষে সংশোধিত বরাদ্দে রাজ্যের প্রাপ্য ১১ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে দিয়েছে। আবার সেস এবং সারচার্জ বাবদ কেন্দ্র যা আয় করছে, তার ভাগ পাওয়ার অধিকার রাজ্যের নেই। আবার জিএসটি ক্ষতিপূরণ বাবদ কেন্দ্রের কাছ থেকে রাজ্যের পাওনা ২৪০৬ কোটি টাকা যা তা এখনও মেলেনি। তাছাড়া কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাবদ রাজ্যে কেন্দ্রের কাছ থেকে পাওনা ৩৭ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা এখনও পাওয়া যায়নি।

এদিকে অমিতবাবু যখন এই সব পরিসংখ্যান তুলে ধরছেন তখন তাঁকেই বিধানসভায় পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানান বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী। তিনি অভিযোগ করেন, বাজেটের বিভিন্ন নথিতে একই দফতরের বিভিন্ন রকম বরাদ্দের পরিসংখ্যান দিয়ে এই সরকার বিভ্রান্ত করছে। এই বাম নেতার বক্তব্য, রাজ্য গঠনের পর থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত যেখানে রাজ্যের ঋণের বোঝা ছিল ১ লক্ষ ৯২ হাজার কোটি টাকা সেখানে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত আট বছরেই শুধু ঋণ করেছে ২ লক্ষ ৮৭ হাজার কোটি টাকা। এই কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন করেন, যদি রাজ্যের নিজস্ব আয় এত ভাল হয় তবে কেন এত টাকা ঋণ করতে হল? ঋণের টাকা এবং আয়ের টাকা কোথায় যাচ্ছে জানতে চান৷ তাছাড়া সিপিএম বিধায়ক তথা শিলিগুড়ির মেয়র অশোক ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন, এ রাজ্যে অনুৎপাদক ‘কাটমানি অর্থনীতি’ চলছে।কংগ্রেস বিধায়ক সুখবিলাস বর্মাও অর্থ বিলের বিভিন্ন পরিসংখ্যানে গরমিলের কথা তুলে ধরেন।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা