সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : তিনি বিবেকানন্দ সেজেছিলেন যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের এক রাজ্য সরকারি অনুষ্ঠানে। তিনি বারংবার বলে এসেছেন রাজনীতি হলেও সুস্থ লড়াইয়ের কথা। যুদ্ধ জিতে ঘাটালের তৃণমূল প্রার্থী দেব সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখলেন স্বামী বিবেকানন্দের ধ্বনি। মনে করালেন নতুন ভারতের কথা। বার্তা দিতে চাইলেন, আগামী পাঁচ বছরে তাঁর সাংসদ হিসাবে অঙ্গীকারের কথা।

যুদ্ধ জিতে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখলেন, “বিবেকানন্দ বলেছিলেন ‘নূতন ভারত বেরুক। বেরুক লাঙল ধরে, চাষার কুটির ভেদ করে, জেলে মালা মুচি মেথরের ঝুপড়ির মধ্য হতে। বেরুক মুদির দোকান থেকে, ভুনাওয়ালার উনুনের পাশ থেকে। বেরুক কারখানা থেকে, হাট থেকে, বাজার থেকে। বেরুক ঝোড় জঙ্গল পাহাড় পর্বত থেকে।’ আসুন আমরা সবাই সেই নতুন ভারত গড়ে তোলার চেষ্টা করি।

একইসঙ্গে তিনি বলেন , “মানুষ ভোট দিয়েছে, একজন জয়ী হয়েছে। কেউ হারেনি। দেশের গণতন্ত্র জিতেছে, নতুন সরকার তৈরি হচ্ছে। সবাই মিলে নতুন ভারত গড়বো। আবার পাঁচবছর পর ভোট হবে, আবার মানুষের কাছে যাবো। আপাতত এই লম্বা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় থাকা প্রত্যেক কে আন্তরিক ধন্যবাদ। ধন্যবাদ ঘাটালের বিজেপি প্রার্থী, সিপিআই প্রার্থী কে। আশা করবো আগামীদিনেও আপনাদের সাহায্য ভালোবাসা পাবো।”

প্রসঙ্গত বিবেকানন্দ ভারত ভ্রমণে বেড়িয়ে ভারতীয় যুব শক্তির পরখ করে ‘নূতন ভারত বেরুক’ কথাটি বলেছিলেন। পুরো বার্তাই ছিল ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে যুব সমাজকে উদ্বুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে। যে অংশটি দেব উল্লেখ করেননি সেই বাকি অংশে বিবেকানন্দ বলেছিলেন , “এরা সহস্র সহস্র বৎসর অত্যাচার সয়েছে, নীরবে সয়েছে- তাতে পেয়েছে অপূর্ব সহিষ্ণুতা। সনাতন দুঃখ ভোগ করেছে- তাতে পেয়েছে অটল জীবনীশক্তি। এরা এক মুঠো ছাতু খেয়ে দুনিয়া উলটে দিতে পারবে; আধখানা রুটি পেলে ত্রৈলোক্যে এদের তেজ ধরবে না; এরা রক্তবীজের প্রাণসম্পন্ন। আর পেয়েছে অদ্ভুত সদাচারবল, যা ত্রৈলোক্যে নাই। এত শান্তি, এত প্রীতি, এত ভালবাসা, এত মুখটি চুপ করে দিনরাত খাটা এবং কার্যকালে সিংহের বিক্রম!!! অতীতের কঙ্কালচয় ! এই সামনে তোমার উত্তরাধিকারী ভবিষ্যৎ ভারত।” স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ‘পরিব্রাজক’-এ এই উক্তির উল্লেখ রয়েছে।

নির্বাচনের ফলের আগের দিন দেব নিজের ফেসবুকে ওয়ালে লিখেছিলেন, “কোনও একটা দল হারতে পারে, একজন ব্যক্তি হারতেই পারে কিন্তু জিতবে ভারতের গণতন্ত্র। জিতবে ক্ষেতে কিষাণ কলে মজুর, জিতবে ছাত্র শিক্ষক শিল্পী। জিতবে মানুষ। আমি চাই, যারাই আসুক সরকারে দেশ যেন শেষমেষ জিতে যায়।”