সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: বিপক্ষ ভারতী জানতে পেরে ফেসবুকে সৌজন্যের মাধ্যমে রাজনীতির মাস্টার স্ট্রোক খেলেছিলেন দেব। এবার সরাসরি সৌজন্যের খেলা শুরু করলেন তিনি। ঘাটাল কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী ভারতী ঘোষ যখন তৃণমূল কর্মীদের বাড়ি থেকে বেরোতে না দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন তখন দেব ভারতী ঘোষকে শুভেচ্ছা জানালেন।

আরও পড়ুন- বকেয়া পাওনা, আখচাষীদের বিক্ষোভে উত্তরপ্রদেশে বেকায়দায় বিজেপি

রবিবার দুপুরে কেশপুরে দলীয় কর্মীসভা সেরে প্রচারে বেরিয়ে তৃণমূলকর্মী সমর্থকদের রোষের মুখে পড়েন। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনা প্রসঙ্গে ভারতী ঘোষ বলেছিলেন, “যারা আড়ালে দাঁড়িয়ে আমার কথা শুনছেন তাদের বলে রাখি আর একটাও অভিযোগ যদি আমি শুনতে পাই বা দেখতে পাই তাহলে মনে রাখবেন বাড়ি থেকে বেরোনো বের করে দেব। মনে রাখবেন এই।

এলাকা আমি আমার হাতের তালুর মতো চিনি।” ভারতীর এই ‘হুমকি’ প্রসঙ্গে দেবকে প্রশ্ন করতেই তিনি বলেন, “আমি ওনাকে শুভেচ্ছা জানাবো। আমি মনে করি রাজনীতিতে সৌজন্য প্রয়োজন, তাই আগেও সেটা রেখেছি এখনও রাখব। আর ওনার যা বলার উনি বলেছেন।” একইসঙ্গে দেব বলেন ,”রাজনীতি করলেই খারাপ কথা বলতে হবে এমন কথা কোথায় লেখা আছে?” দেবের কথায় “আমি যদি কাদা ছুঁড়ে মারি আমার গায়েও একটু লাগবে। সেটা আমি চাই না”।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন , ‘চমক ধমকের রাজনীতির বদলে নিজের ‘গুড ইমেজ’ ধরে রেখে ভোট তুলে নেওয়ার জন্য সৌজন্যের রাজনীতির চেয়ে ভালো কিছু হয় না।’ সেটাই করছেন পাঁচ বছরে কিছুটা পোর খেয়ে যাওয়া দেব।

সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চাংওয়াল এলাকায় জনসভা করে তৃণমূল। উপস্থিত ছিলেন ঘাটালের তৃণমূল প্রার্থী দেব।সেখানেই তিনি একের পর এক সৌজন্যের বার্তা দিয়ে যান।মঞ্চে নিজের বক্তব্য রাখতে এসে দেব আরও বলেন, “আমার নামে কে কি বললো তা আমি গায়ে মাখিনা। আমি কাউকে ছোট করতে চাইনা। কারোর গায়ে কাদা ছুড়তেও চাই না। উন্নয়ন যে বাংলায় কতটা হয়েছে তা আপনারা দেখছেন। সবুজ সাথী,কন্যাশ্ৰী, রূপশ্রী সহ বহু কিছু করেছেন। তাই আপনাদের মূল্যবান ভোট ১২ মে দিন নির্ভয়ে।” এদিন ওই জনসভায় উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল জেলা সভাপতি অজিত মাইতি,মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র,জহর পাল।

মঞ্চে বক্তব্য রাখেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি। অজিতবাবু বলেন, “কেশপুরে ফাঁকা ময়দানে সভা করে ভাষা কিরকম বলছে জানেন? রাস্তার ছিঁচকে মস্তানরা যেমন কথা বলে ঠিক তেমন। ছিঁচকে মস্তানি করে বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলছেন তৃণমূলের ডেথ সার্টিফিকেট লিখে দেবে। মানুষ সব দেখছে।”