কলকাতা- এবার পুজোয় একসঙ্গে বেশ কয়েকটি বাংলা ছবি মুক্তি পাচ্ছে। কিন্তু বাংলার হলগুলিতে সেই ছবিগুলি সেভাবে জায়গা পাচ্ছে না। বরং কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের হলগুলিতে আধিপত্য বিস্তার করে রয়েছে হিন্দি ছবিগুলি। বড় ব্যানারের ছবি হলে কয়েকটি হলে জায়গা পেলেও, বাকি পরিচালক-প্রযোজকদের রীতিমতো কালঘাম ছোটাতে হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে বুধবার সরব হন প্রযোজক-অভিনেতা তথা লোকসভার সাংসদ দেব।

বুধবার দেব একটি টুইট করেন, আমি গর্বিত বাংলার সাহিত্য, কবিতা, গান, বাংলার জীবন যাপন নিয়ে। আর যা কিছু বাংলার, যা কিছু বাঙালির তাই নিয়েই বাংলা সিনেমা। বাংলা কে বাঁচাতে হলে, বাঙালিকে বাঁচাতে হলে, বাংলা সিনেমাকে বাঁচাতেই হবে। আসুন আমরা সবাই বাংলা সিনেমার পাশে দাঁড়াই। এই মুহূর্তে এটাই সবথেকে জরুরি কাজ।

দেব আর একটি টুইট করেন, রাজ্যের সিনেমা হল মালিকদের বলি হিন্দি ছবির থেকে বেশি নয় অন্তত সমান সুযোগ আমাদের দিন। লড়াই টা অন্তত সমানে সমানে হোক। বাংলা সিনেমার পাশে দাঁড়ান।

দেবের এই টুইট মুহূর্তে ভাইরাল হয়। পরিচালক সৃজিৎ মুখোপাধ্যায় দেবের এই টুইট শেয়ার করে লেখেন, তোমার সঙ্গে একশোভাগ একমত দেব। বাংলা সিনেমার পাশে থাকুন। এছাড়াও পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, পরিচালক প্রতীম দাশগুপ্ত, রামকমল মুখোপাধ্যায়-সহ আরও অনেকে দেবকে সমর্থন করে
টুইট করেন।

বৃহস্পতিবার তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সেক্রেটারি সুদীপ ঘোষ দেবের এই টুইট দেখার পরেই তৎপর হন। তিনি ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচারস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট সুদীপ ঘোষকে আবেদন করেন যাতে বাংলার ছবিগুলি হলে মুক্তি পায়। সেই আবেদনপত্র শেয়ার করে দেব টুইট করেন, আমি আবেদন করেছিলাম,কেবল আমার ছবির জন্য নয়,বাংলা সিনেমার জন্য। বাংলা সংস্কৃতি,বাংলা ভাষা, বাংলা সিনেমার পাশে থাকার জন্য। দিদিকে ধন্যবাদ,অনেক ধন্যবাদ রাজ্য সরকারকে,তাঁরা ব্যবস্থা নিয়েছেন। হ্যাঁ লেভেল প্লেয়িং গ্রাউন্ডটা দিন,আমরা লড়ে দেখিয়ে দেবো। বাংলা ছবির পাশে থাকুন।

এই টুইটে দেব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও উল্লেখ করেন।

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে এই সমস্যার মুখে পড়েছিল প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য পরিচালিত রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত ছবিটিও। এই ছবিটি প্রথমে কলকাতার কোনও হলেই জায়গা পায়নি। তার পরেই সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। সেই প্রতিবাদের জেরেই ২৭ সেপ্টেম্বরই কলকাতার বেশ কয়েকটি হলে মুক্তি পাচ্ছে এই ছবি।