রাত পোহালেই গণেশ পুজো। দেশ জুড়ে মানুষ মেতে উঠবেন গণেশ চতুর্থী উৎসবে। মনে করা হয় গণেশ পুজোয় হয় সিদ্ধিলাভ। যদিও মূলত মহারাষ্ট্রে এই পুজোর প্রচলন ও রমরমা বেশি, তবে অন্যান্য জায়গাতেও বেশ ধুমধাম করেই হয় গণেশ পুজো।

২ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ সোমবারই পঞ্জিকা মতে গণেশ চতুর্থী। পুজো আয়োজিত হতে চলেছে দেশ জুড়ে। সেই দিন থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে গণেশ পুজো। ১২ সেপ্টেম্বর রয়েছে গণেশ বিসর্জনের দিন।

১ সেপ্টেম্বরের ঠিক সন্ধ্যে ৭:২৭ মিনিট থেকে চতুর্থী পড়েছে বলে দাবি শাস্ত্রে। চতুর্থী শেষ হচ্ছে ২ সেপ্টেম্বর বিকেলে। শাস্ত্র মতে সেপ্টেম্বরে ১ তারিখ , সন্ধ্যে ৭:২৭ মিনিট থেকে রাত ৯:১৫ মিনিট পর্যন্ত এই সময়কালের মধ্যে চাঁদ দেখা থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দিচ্ছেন শাস্ত্রজ্ঞরা।

সিদ্ধিদাতা গণেশের পুজো করলে ইচ্ছা পূরণ হয় বলে শোনা যায়। গণেশকে তুষ্ট করতে তাঁর প্রিয় মোদক অর্পণ করে পুজো সম্পন্ন করলেই , তা নিরাময় করে বহু সমস্যার। আর সেই আরাধনার উপযুক্ত সময় আসন্ন গণেশ চতুর্থী।

বলা হয়, গণেশ জন্মেছিলেন মধ্যহ্নকালে৷ তাই তাঁর মূর্তি মধ্যহ্নকালেই প্রতিষ্ঠিত করতে হয়৷ এই বছর গণেশ চতুর্থীর প্রথম দিন দুপুর ১২:৩০ থেকে ১:০০ পর্যন্ত সময়ে মূর্তি প্রতিষ্ঠিত করতে হবে৷ অবশ্য এখন অনেকেই তার আগেই মূর্তি স্থাপন করে নেন৷ তবে এই দিন বিশেষ পুজো পাঠের আয়োজন করতে হয়৷ গণেশের মূর্তি এমন ভাবে বেদীতে বসাতে হবে যাতে সর্বক্ষণ সর্বদিক তাঁকে দেখতে পান ভক্তরা৷ মূর্তি বসানোর আগে জায়গাটি অবশ্যই পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে রাখতে হবে৷ বেদীতে কাপড় বিছিয়ে সেখানে চাল ছড়িয়ে রাখতে হয়৷

গণেশ পুজোর রীতি কি?
গণেশের মন্ত্র পাঠ করে পুরোহিত তাঁর মধ্যে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেন৷ এরপরই বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়৷ যেখানে ১৬টি পদ্ধতিতে গণেশকে প্রার্থনা করা হয়৷

গণেশের খুব প্রিয় লাড্ডু৷ এই দিন ভক্তরা লাড্ডু পরিবেশন করেন৷ এছাড়া গুড়, নারকেল, ময়দায় তৈরি খাবার থালায় সাজিয়ে দেন৷ এছাড়া লাল ফুল ও ২১টি দুর্বা পুজোয় দিতে হয়৷ গণেশের কপালে লাল চন্দনের তিলক দিতে হয়৷ বেদোচ্চারণ, গায়ত্রী মন্ত্র ও গণেশের স্তোত্র পাঠের মধ্যে দিয়ে সম্পন্ন হয় পুজো৷