বিশেষ প্রতিবেদন: উত্তরবঙ্গের মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্যে এই অঞ্চলে পর্যটন শিল্প খুবই উন্নত। উত্তরবঙ্গের অন্যতম বেড়ানোর জায়গা চাপড়ামারি। গরুমারার প্রতিবেশী পর্যটনকেন্দ্র চাপড়ামারি। চালসা আর লাটাগুড়ি থেকে দূরত্ব ৩০ কিলোমিটার। জলদাপাড়া যাওয়ার পথে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কে খুনিয়া মোড়। এই মোড় থেকে তিন দিকে তিনটি রাস্তা চলে গেছে। সোজা রাস্তা বানারহাট, বিন্নাগুড়ি হয়ে বীরপাড়ার দিকে।

ডান হাতের রাস্তা গেছে মূর্তির দিকে। আর বাঁ দিকে পাকা রাস্তা ধরে দেড়-দুই কিলোমিটার গেলে বাঁ দিকে কাঁচা পথ। সেই পথ জঙ্গল চিরে চলে গেছে চাপড়ামারি অভয়ারণ্যের গভীরে। চাপড়ামারি বনবাংলোয় গিয়ে শেষ হয়েছে সেই পথ। এ পথে অরণ্য সবুজ গালিচা। ঘন সবুজের মাঝে এক চিলতে পথ। যে কোনও মুহূর্তে রাস্তার উপর এসে পড়তে পারে হাতির দঙ্গল বা অন্য কোনও বন্যজন্তু। এই সামান্য এক-দেড় কিলোমিটার পথ কিন্তু প্রাণে বেশ ভয় ধরায়। আবার রোমাঞ্চও জাগায়।

এই অভয়ারণ্য যদিও ১৯৪০-৪১ সাল থেকেই প্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র হিসাবে ঘোষিত, তবু অভয়ারণ্যের স্বীকৃতি জোটে ১৯৭৬ সালে। গরুমারার মতো এখানেও দেখা যায় হাতি, নানা প্রজাতির হরিণ, গাউর, বুনো শুয়োর, লেপার্ড, বাঘ আর অসংখ্য পাখি। ভাগ্য ভালো থাকলে এখানে পর্যটকরা বন্য জন্তুর দেখা পাবেনই। লালি, চিলৌনি, কাঞ্চন, বহেড়া প্রভৃতি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ, প্রায় একশ খানেক প্রজাতির অর্কিড আর নানা ধরনের ঘাসের অরণ্য চাপড়ামারি।

শিয়ালদহ থেকে রাত্রি ৮টা ৩০ মিনিটে ১৩১৪৯ কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেসে চেপে পরদিন নিউ জলপাইগুড়ি নামুন। সেখান থেকে ভাড়া গাড়িতে সরাসরি চাপড়ামারি যাওয়া যায়। জলপাইগুড়ির ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিস ‘অরণ্য ভবন’ থেকে বনবাংলোয় থাকার অনুমতি নেওয়া যায়। অথবা চালসা বা লাটাগুড়ির বন অফিস থেকে অনুমতি নিয়ে একদিনে চাপড়ামারি দেখে নিতে পারেন।