তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: তীব্র তাপপ্রবাহ উপেক্ষা করে প্রচারের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন সব দলের প্রার্থীরাই। এই মুহূর্তে রাজনৈতিক দলগুলির প্রচার যুদ্ধে সরগরম বাঁকুড়া। শুক্রবার বিষ্ণুপুর (তফঃ) লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অধ্যাপক শ্যামল সাঁতরা রোদের উত্তাপকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে বড়জোড়া ব্লক এলাকার শ্রীকৃষ্ণপুর, বৃন্দাবনপুর, সাগরকাটা, রাজাকাটা গ্রামে প্রচার করেন।

কখনো হুড খোলা গাড়িতে, আবার কখনও পায়ে হেঁটেই পৌঁছে যান মানুষের কাছে। তিনি যেখানেই গিয়েছেন সেখানেই অসংখ্য মানুষ তাঁকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অভ্যর্থনা জানাতে এগিয়ে এসেছেন। মহিলারা শাঁখ বাজিয়ে, উলু দিয়ে কপালে চন্দনের ফোঁটা দিয়ে পরিয়েছেন মালা। তার সঙ্গে মিষ্টি জল খাওয়ানোর আবদার তো রয়েছে।

বড়জোড়ার এই এলাকায় গত কয়েক বছর ধরে দলমার দামালদের মুক্তাঞ্চলে পরিণত হয়েছে। মাঝে মধ্যেই হাতির আক্রমণে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এবিষয়ে তৃণমূল প্রার্থী অধ্যাপক শ্যামল সাঁতরা বলেন, ক্ষতিপূরণ দিয়ে আমাদের দায়িত্ব শেষ হয় না। হাতির আক্রমণ যাতে না ঘটে সেবিষয়টিতেই রাজ্য সরকার জোর দিয়েছে। রাজ্য বনদফতর ইতিমধ্যে এই বিষয়ে বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। আগামী দিনে হাতির আক্রমণে সম্পত্তি ও প্রাণহানির ঘটনা শূন্যতে নামিয়ে আনাই লক্ষ্য বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে প্রচারে পিছিয়ে নেই বিজেপিও। বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের দলীয় প্রার্থী ডাঃ সুভাষ সরকার মেজিয়া ব্লক এলাকার রাণীপুর ও শালতোড়া এলাকার বেশ কিছু গ্রামে এদিন প্রচার শুরু করেছে। এই মুহূর্তে জনসংযোগেই জোর দিতে চাইছেন তিনি। তিনি তাঁর প্রচারে কেন্দ্র সরকারের প্রকল্পগুলি তুলে ধরার পাশাপাশি রাজ্য সরকারের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরছেন।

এদিন তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় রাজ্য সরকারের শিল্প নীতির কড়া সমালোচনা করে বলেন, মুখ্যমন্ত্রী কোটি টাকা খরচ করে শিল্প সম্মেলন করছেন। অথচ উনি শিক্ষিত বেকারদের চপ ভেজে উপার্জনের কথা বলছেন। বর্তমান রাজ্য সরকার শিল্প স্থাপনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ স্থাপনে দাবি করেন তিনি৷

তাঁর বক্তব্য, মেজিয়া-শালতোড়া এলাকার প্রচুর মানুষ বেলমালা তৈরি করে সংসার চালান। এখানকার বেল মালা সারা বিশ্বে সমাদৃত দাবি করেন ডাঃ সুভাষ সরকার৷ এই কুটির শিল্পকে বাঁচাতে রাজ্যের কোন উদ্যোগ নেই। এই বিষয়টাকেই তারা প্রচারে হাতিয়ার করছেন বলে তিনি জানান।