স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি প্রার্থী নীলাঞ্জন রায়ের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাঁর বিরুদ্ধে যথপোযুক্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে না পুলিশ। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে এমনই অভিযোগ এনেছে পশ্চিমবঙ্গ শিশু অধিকার সুরক্ষা আয়োগ। গত ২৬ এপ্রিল ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে যৌন হেনস্তার অভিযোগ ওঠে ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে।

শুধু তাই নয়, এর আগেও ২০১৫ সালে নীলাঞ্জনের বিরুদ্ধে আরও দুটি প্রকসো মামলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অথচ মনোনয়ন জমা দেবার সময় প্রকসো মামলার কথা গোপন রেখেছেন নীলাঞ্জন রায়। সোমবার দুপুরে এ বিষয় কথা বলতে নির্বাচন কমিশনে গিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গ শিশু অধিকার সুরক্ষা আয়োগের চেয়ারপার্সন অনন্যা চক্রবর্তী।

তিনি kolkata24x7.com-কে বলেন, “আজ আমরা নির্বাচন কমিশনে গিয়েছিলাম। ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি প্রার্থী নীলাঞ্জন রায়ের বিরুদ্ধে তিনটি প্রকসো মামলা রয়েছে। দুটো বালুরঘাটের (২০১৫ সালে) এবং অন্যটা ২৬ এপ্রিল ফলতায়। নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছি নীলাঞ্জন রায়ের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে। আরও একটা জরুরি কথা, ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি প্রার্থী এপিডেপিডে উল্লেখ করেননি যে তাঁর বিরুদ্ধে প্রকসোর মামলা রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ শিশু অধিকার সুরক্ষা আয়োগের চেয়ারপার্সন অনন্যা চক্রবর্তী আরও বলেন, “এটা খুব বিপজ্জনক ব্যাপার। প্রথমত, একজন ধারাবাহিক দোষীকে নির্বাচনে দাঁড়াতে দেওয়া অনুচিত। দ্বিতীয়ত, তিনি যদি কোনও কারণে জয়ী হন তাহলে সেই এলাকার মাহিলা ও শিশুদের নিরাপত্তা একেবারেই থাকবে না।

যদিও তাঁর অভিযোগ আদৌ কার্যকর হবে কিনা এ বিষয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অনন্যা চক্রবর্তীর কথায়, “আমরা মনে করি ওনার প্রার্থীপদ বাতিল করে অবিলম্বে গ্রেফতার করা উচিৎ। কিন্তু, অভিযোগের সত্যতা থাকা সত্ত্বেও নীলাঞ্জন রায়কে গ্রেফতার করতে ভয় পাচ্ছে পুলিশ। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নির্দেশ গেলে কার্যকর হবে বলে মনে করি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এখনও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।”