স্টাফ রিপোর্টার, কোলাঘাট: মাধ্যমিক পরীক্ষার ১৫দিন আগে হারিয়েছে বাবাকে৷ তারপরেও স্টার মার্কস নিয়ে জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষার বৈতরণী পার করেছে কৃষ্ণা৷ পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কোলাঘাট থানার অন্তর্ভুক্ত আগাড় গ্রামে ১৬ বছরের কৃষ্ণা মাইতি। প্রাপ্ত নম্বর ৬৩৪৷ স্কুলের মধ্যে প্রথম হয়েছে কৃষ্ণা৷

দুর্ভাগ্য কিন্তু এখনও পিছু ছাড়ছে না মাইতি পরিবারের এই মেধাবি ছাত্রীকে৷ মাইতি পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ছিলেন কৃষ্ণার বাবা মেঘনাথ মাইতি। পেশায় ইমিটেশন দোকানের সেলসম্যান। পথ দুর্ঘটনায় মারা যান মেঘনাথ বাবু। একমাত্র রোজগেরে মানুষ চলে যাওয়াতে ভেঙে পড়ে গোটা পরিবার। বাবাকে হারিয়ে মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে জীবনের প্রথম পরীক্ষায় দিতে যায় কৃষ্ণা।

বল্লুক বীণাপাণি গার্লস স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকা পাশে দাঁড়ান কৃষ্ণার। মাধ্যমিকের ৬৩৪ নম্বর পেয়ে পিতৃহারা কৃষ্ণা বল্লুক বীনাপাণি গার্লস স্কুলে প্রথম হয়। কিন্তু কৃষ্ণার মা চৈতালি মাইতি কাছে সম্বল ছেলে আর মেয়ে। আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়ার জন্য উচ্চ মাধ্যমিকের পড়ার খরচ বহন করার মতো ক্ষমতা চৈতালি দেবীর নেই। তাই চৈতালি দেবী ও কৃষ্ণার আবেদন কোন ব্যক্তি বা সরকারি অনুদানের হাত বাড়িয়ে দেন তাহলে আগামীদিন উচ্চশিক্ষার আশা পুরণ হতে পারে।

চৈতালি দেবী বলেন, যেখানে আমি সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। সেখানে উচ্চমাধ্যমিকের পড়াশোনার খরচ যোগাবো কি করে। মেয়ে চায় উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে কিন্তু আমি নিরুপায়।

ছাত্রী কৃষ্ণা বলেন, বাবা সব রকম পড়াশোনার খরচ বহন করত। বাবা চলে যাওয়াতে মা আমার ও ছোট ভাই শান্তনুর দুবেলা খাওয়া যোগাতে হিমশিম খাচ্ছে। এর মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিকের অনেক খরচ মা বহন করবে কি করে। আমার স্বপ্ন আমি উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হব কিন্তু আর্থিক অনটনে সে স্বপ্ন বিশবাঁও জলে। তাই কোন ব্যক্তি ও সরকার যদি সাহায্য করে তাহলে আমি আমার স্বপ্ন পূরণ করতে পারব।