ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার,মালদহ: ভারতীয় নাগরিকত্বের পরিচয় পত্র থাকলেও বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকার কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের বিড়ি বাঁধা কাজ করতে দিচ্ছে না বিএসএফ কর্তৃপক্ষ বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ঘরোয়া নিত্য সামগ্রী নিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও বিএসএফের চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে গ্রামবাসীদের।

এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে কালিয়াচক থানার চরিঅনন্তপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা গণস্বাক্ষর সম্বলিত জেলাশাসকের কাছে ডেপুটেশন দিলেন।

চরিঅনন্তপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সীমান্তবর্তী গ্রাম দুইশতদিঘী , মহব্বতপুর, হাদিনগর। এইসব গ্রামের জনসংখ্যা প্রায় এক হাজার। অধিকাংশ গ্রামের বাসিন্দারা বিড়ি বাঁধার কাজের সঙ্গে যুক্ত। সেটাই তাদের মূল রুজি-রোজগার। কিন্তু সীমান্তবর্তী এলাকায় বিড়ির পাতা-মশলা আমদানি করতে দিচ্ছে না বিএসএফ বলে অভিযোগ তুলেছেন গ্রামবাসীরা। এমনকি বিড়ি বাঁধার কাজে বিঘ্ন ঘটানো হচ্ছে বিএসএফের পক্ষ থেকে।

এছাড়াও গ্রামের অধিকাংশ মানুষের ঘরোয়া খাদ্য সামগ্রী নিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করছে বিএসএফ কর্তৃপক্ষ। এব্যাপারে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন সীমান্তবর্তী ওইসব গ্রামের হাজারো বাসিন্দারা । তাই এদিন প্রতিবাদ জানিয়ে জেলাশাসকের কাছে গণস্বাক্ষর সম্বলিত স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।

এদিন গ্রামবাসীদের সঙ্গে অভিযোগ নিয়ে জেলাশাসকের কাছে হাজির হয়েছিলেন কালিয়াচকের প্রাক্তন বিধায়ক বিশ্বনাথ ঘোষ। তিনি বলেন, মালদার চরিঅনন্তপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এমনভাবে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে প্রায় এক হাজার মানুষ কাঁটাতারের বেড়ার ভারতীয় সীমান্তের ওপারে চলে গিয়েছে। সেই কাঁটাতারের বেড়ার মধ্যে থাকা এইসব গ্রামবাসীদের এখন জেরবার অবস্থা বলা যেতে পারে‌।

সীমান্ত সংলগ্ন ভারতীয় নাগরিকেরা যেন ডিটেনশন ক্যাম্পের মধ্যে বাস করছে। তাদের মূল রুজি-রোজগার বিড়ি বাঁধা এবং তা সরবরাহ করা। সেই কাজ এখন বিএসএফ কর্তৃপক্ষ করতে দিচ্ছে না । এছাড়াও যেকোনো নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে খাতায় বারবার সই করতে হচ্ছে।

প্রাক্তন বিধায়ক বিশ্বনাথবাবুর আরও অভিযোগ, সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত সীমান্ত এলাকার তারকাঁটার গেট খোলা থাকার কথা। কিন্তু তা মানা হচ্ছে না। রীতিমতো গ্রামবাসীরা বিএসএফের হয়রানিতে নাজেহাল অবস্থা। তাই সমস্ত বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে।

এদিন মহব্বতপুর গ্রাম থেকে এসেছিলেন কুসুম সিংহ , আভা সিংহ , ভারতী সিংহ, অর্জুন সিংহ সহ ১০০ জনেরও বেশি গ্রামবাসী । তাঁদের বক্তব্য, আমাদের পূর্বপুরুষ থেকেই বিড়ি বাঁধার কাজে চলে আসছে । কিন্তু কয়েক মাস যাবত বিএসএফ এখন এই কাজ করতে দিচ্ছে না। জানি না এর পিছনে কি উদ্দেশ্য রয়েছে। সীমান্তের তারকাটা ওপারে আমাদের এখন ডিটেনশন ক্যাম্পের মতোই নজর বন্দি করে রাখা হয়েছে। অবাধ স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। যার ফলে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে এখন শতাধিক গ্রামবাসীকে। নিজেদের স্বাধীন ভাবে থাকা, কাজ করার দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে।

গ্রামবাসীদের আরও অভিযোগ, এব্যাপারে বিএসএফ কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে কোনও রকম আলাপ-আলোচনায় বসছে না।

বলাবাহুল্য , ৪ মার্চ মালদহে দলের কর্মী সম্মেলন করতে এসে বিএসএফের বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি, বিএসএফের কাজকর্ম নিয়ে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সামাজিক কাজে হস্তক্ষেপ করছে বিএসএফ এমন অভিযোগ তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তার এই বক্তব্যের পরপরই এখনই চরিঅনন্তপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সীমান্তবর্তী বেশকিছু গ্রামে মানুষদের নজরবন্দি এবং ঘেরাটোপে আটকে রাখার অভিযোগ তুলেছেন বাসিন্দারা। যা নিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

যদিও এপ্রসঙ্গে, বিএসএফের মালদহ কর্তৃপক্ষ কোনও রকম মন্তব্য করতে চাননি। তবে জেলাশাসক রাজর্ষি মিত্র জানিয়েছেন, দাবি-দাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে এনিয়ে বিএসএফ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসা হবে।