কুয়ালালামপুর: গলেনি বরফ, ক্ষমার পরেও কাটল না জটিলতা। ধর্ম ও জাতি বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করায় সরকারের ভেতর তৈরি হয়েছিল দন্দ্ব। মহাথির মহম্মদের সরকার সম্মুখীন হয়েছে বিরোধিতার। অনেক বাদানুবাদের পর বিতর্কিত ধর্ম প্রচারক জাকির নায়েকের কার্যকলাপ এবার নিষিদ্ধ ঘোষণা করল মালয়েশিয়া সরকার।

যদিও তিনি এই বিষয়ে দাবি করেছেন, তিনি জাতি বিদ্বেষী নন। তারপরও মালয়েশিয়া পুলিশ তাঁকে দেশের কোথাও ধর্মীয় বক্তব্য রাখতে জারি হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। সাতটি রাজ্যে নিষিদ্ধ হয়েছে তাঁর বক্তৃতা। সম্প্রতি জাকির নায়েক মন্তব্য করেছিলেন, ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমানদের চেয়ে মালয়েশিয়ায় থাকা সংখ্যালঘু হিন্দুরা শতগুণ বেশি অধিকার পায়। মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী হিন্দুরা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সমর্থন করে বেশি।

এই বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মহাথির মহম্মদ জানিয়েছিলেন, ক্রমাগত রাজনৈতিক উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে সীমা অতিক্রম করেছেন জাকির নায়েক। প্রধানমন্ত্রী মহাথির এর আগেও জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন।

জুলাইয়ের ১৪ তারিখ জাকির নায়েক বলেছিলেন, ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিমদের তুলনায় মালয়েশিয়ার হিন্দুরা ১০০ শতাংশ বেশি অধিকার ভোগ করে থাকেন। পাশাপাশি কোটা বারুতে এক সভায় তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়ার হিন্দুরা মহাথীর মহম্মদের তুলনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি বেশি অনুগত। জাকিরের এই মন্তব্যে উঠেছে ঝড়। প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশের একাধিক মহল।

মঙ্গলবার তিনি ক্ষমা চেয়েছেন। এরকম এক জনবিন্যাসের দেশে ওই মন্তব্য করে দেশের আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন জাকির নায়েক। তবে গোটা বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তিনি। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, “আমি নিজেকে পরিষ্কার করেছি সকলের কাছে। আমি সকলের কাছে ক্ষমা চেয়েছি যদি কেউ ভূল বোঝাবুঝিতে দুঃখ পেয়েছেন। আমার জন্য মনে কেউ খারাপ কিছু মনে পুষে রাখবেন না।”

এও দাবি ওঠে জাকিরের নাগরিকত্বও কেড়ে নেওয়া হোক। তবে সেসব এখনও পর্যন্ত না করা হলেও তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত নেমেছে দেশের গোয়ন্দা সংস্থাগুলি। এর আগে জাকির নায়েককে দু’দিন কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে নিষেধ করা হয়েছিল। এবার তাতেই শিলমোহর দিল মালইয়েশিয়া সরকার। নায়েক গত তিন বছর ধরে স্থায়ী নাগরিকত্ব নিয়ে মালয়েশিয়ায় থাকছেন। একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে যেখানে দেখা গেছে তিনি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এই জাতি বিদ্বেষমূলক মন্তব্যটি করেছেন। যা তৈরি করেছে বিতর্ক।

তদন্তের ভিত্তিতে যদি প্রমাণ হয় যে তাঁর মন্তব্য ও কাজকর্ম দেশের শান্তি-সম্প্রীতি, ঐক্য-উন্নতিতে আঘাত করেছে তাহলে তাঁর নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করা হবেে। এমনটাও জানিয়েছে মালয়েশিয়ান সরকার।