মানব গুহ, কলকাতা: এবার কি শুরুতেই শেষ? ২০১৫ সালে দর্শকদের ভীড় অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় পঞ্চমীতেই বিসর্জনের বাজনা বেজে গিয়েছিল দেশপ্রিয় পার্কের দূর্গাপুজোতে৷ পুলিশের তরফ থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল সবচেয়ে বড় দূর্গার প্যান্ডেল৷ এবার কি বোধনের আগেই বন্ধ হয়ে গেল দেশপ্রিয় পার্কের দূর্গাপুজো? আপাতত: এবারের শিল্পী দীপক ঘোষকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দেশপ্রিয় পার্ক পুজো উদ্যোক্তাদের তরফ থেকে৷ পুজো উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন একটা সমস্যা হয়েছে, সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করা হচ্ছে পুলিশের সঙ্গে কথা বলে৷ যদিও কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার সদর সুপ্রতিম সরকার জানিয়েছেন, কাজ স্থগিত রাখার কোন নির্দেশ দেওয়া হয় নি৷

আরও পড়ুন: দুর্গাপুজোয় ভাসমান বাজার উপহার শহরবাসীকে

‘সবচেয়ে বড় দূর্গা’, ২০১৫ র দেশপ্রিয় পার্কের পুজোর হোর্ডিং এখনও লোকের মুখে মুখে ঘোরে৷ ভীড়ের চাপে পঞ্চমীর সন্ধ্যাতেই বন্ধ করে দিতে হয় সেবারের পুজো৷ কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হয় সৌরভ গঙ্গাপাধ্যায়ের হাতে উদ্বোধন হওয়া সবচেয়ে বড় দূর্গার প্যান্ডেল৷ ২০১৭ তেও কি সেই একই জিনিস কি হতে চলেছে? এবার কি শুরুর আগেই শেষ? এবারের শিল্পী দীপক ঘোষ ও তাঁর সহযোগীদের কাজ স্থগিত করতে নির্দেশ দিয়েছে পুজো উদ্যোক্তারা৷ পুলিশের সঙ্গে বৈঠকের পরই এই পুজো নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানা গেছে৷ উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, কলকাতা পুলিশ প্যান্ডেলের বেশ কিছু বিষয়ে নিজেদের আপত্তির কথা জানিয়েছে৷ শিল্পীর সঙ্গে কথা হচ্ছে৷ যদিও কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার সদর সুপ্রতিম সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন৷

আরও পড়ুন: সংরক্ষিত হতে চলেছে দুর্গাপুজো মন্ডপের শিল্প-কারুকার্য

দেশপ্রিয় পার্ক পুজো উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, এবারে তাদের কোন পুজো টিজার প্রকাশ করতে দেওয়া হয় নি৷ আরও অভিযোগ, কোনরকম পোস্টার, ব্যানার বা হোর্ডিং বের করতে নিষেধ করা হয়েছে কলকাতা পুলিশের তরফ থেকে৷ কলকাতা পুলিশের তরফ থেকে পরিস্কার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, দেশপ্রিয় পার্ক এবার পুজো নিয়ে কোন প্রচার করতে পারবে না৷ এবারে শিল্পী দীপক ঘোষের হাত ধরে থাইল্যান্ডের একটি অত্যন্ত সুন্দর মন্দির গড়ে উঠছে দেশপ্রিয় পার্কে৷ শিল্পীর মতে ইতিমধ্যেই ৬৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে গেছে৷ তারপরই আরও বিভিন্ন শর্ত নিয়ে ঝাঁপিয়ে পরেছে কলকাতা পুলিশ৷ যার ফলে প্যান্ডেল আর করা যাচ্ছে না বলেই অভিযোগ শিল্পীর৷ পুলিশের তরফ থেকে পরিস্কার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সমস্ত কাজ ছোট করে করতে হবে৷ সমস্যা হওয়ায় এই মূহুর্তে তাই কাজ বন্ধ হয়ে আছে দেশপ্রিয় পার্কে৷

আরও পড়ুন: এক নজরে দেখে নিন আগামী ৯ বছরের দুর্গাপুজোর নির্ঘণ্ট

কোন কিছু দূর্ঘটনা হলে সব দায়িত্ব পুজো উদ্যোক্তাদের, কলকাতা পুলিশের এই নয়া ফরমানেও উদ্বেগে দেশপ্রিয় পার্ক পুজো উদ্যোক্তারা৷ প্যান্ডেলের মাপ কমানো, একটি রাম্প তৈরি বন্ধ করা সহ প্যান্ডেল নিয়ে বেশ কিছু শর্ত আরোপ করেছে পুলিশ, অভিযোগ উদ্যোক্তাদের৷ প্রথম থেকে অনেক কিছু মেনেও নেওয়া হয়েছে বলেই জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা৷ কিন্তু এখন প্রতিদিনই নতুন নতুন শর্তের জেরে থাইল্যান্ডের যে মন্দির গড়ে তুলছেন শিল্পী, তা শেষ করা যাচ্ছে না বলেই অভিযোগ৷ প্যান্ডেলের প্রায় ৬৫ শতাংশ কাজ শেষ৷ কিন্তু পুলিশের নতুন নতুন ফরমান জারিতে এবারে একেবারেই বন্ধ হয়ে গেল মন্দির তৈরির কাজ৷

আরও পড়ুন: মাটির টানে প্রবাসেও বাঙালি মেতেছে দুর্গাপুজোয়

এমনিতেই কলকাতা পুলিশের নির্দেশ মেনে থাইল্যান্ডের মন্দির গড়ে তুলতে শিল্পের সঙ্গে অনেকটাই আপোষ করতে হয়েছে বলেই জানিয়েছেন এবারের শিল্পী দীপক ঘোষ৷ তারপর, প্যান্ডেল তৈরির কাজ স্থগিত হয়ে যাওয়ায় অকুল জলে পরেছে দেশপ্রিয় পার্ক পুজো৷
প্যান্ডেল তৈরি স্থগিত হওয়া নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন উঠছে৷
১. কলকাতা পুলিশ কি শুধুই দেশপ্রিয় পার্কের পুজোর জনসমাগম নিয়েই চিন্তিত?
২. দক্ষিণ ও মধ্য কলকাতার অনেক পূজোতেই লক্ষ লক্ষ জনসমাগম হয়, তাহলে শুধু দেশপ্রিয় পার্ক নিয়েই চিন্তিত কেন পুলিশ?
৩. কোন পুজোকে কি পুজোর পোস্টার, হোর্ডিং, ব্যানার দিতে নিষেধ করতে পারে পুলিশ?
৪. দেশপ্রিয় পার্কের পুজো কি দক্ষিণের বেশ কিছু বড় পুজোর লোক টেনে নিচ্ছে, তার জন্যই কি এই নির্দেশের বাড়াবাড়ি?
৫. বড় নেতাদের পুজোয় দর্শক কমে যাচ্ছে দেশপ্রিয় পার্কের জন্য, সেই জন্যই কি শিল্পে আপোষ করতে এই বাড়তি নির্দেশের বোঝা?
৬. দেশপ্রিয় পার্কের পুজোয় আশা দর্শকদের জন্য ট্রাফিক সামলাতে বেশ বেগ পেতে হয় পুলিশকে, তার জন্যই কি নমো নমো করে পুজো প্যান্ডেল শেষ করার নির্দেশ?
৭. দক্ষিণের নেতারা যাদের নিজস্ব দূর্গাপুজো আছে, তাদের সন্তুষ্ট করতেই কি এই প্রচেষ্টা পুলিশের?

আরও পড়ুন: ‘বিশ্বের বৃহত্তম দুর্গাপুজো’র দাবিদার বাগেরহাটের শিকদারবাড়ি

উঠছে প্রশ্ন৷ তবে সমস্ত অভিযোগই অস্বীকার করেছেন কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার সদর সুপ্রতিম সরকার৷ তিনি জানিয়েছেন, ‘নিয়ম মেনেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ কাজ স্থগিত রাখার কোন নির্দেশ দেওয়া হয় নি, পুজোর পোস্টার, হোর্ডিং, ব্যানার না দেবারও কোন নির্দেশ দেওয়া হয় নি’৷ যদিও অদ্ভুতভাবে কলকাতার সব পুজোর পুজোর পোস্টার, হোর্ডিং, ব্যানার, টিজার চোখে পরলেও দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম বড় পুজো দেশপ্রিয় পার্কের কোনকিছুই চোখে পরছে না কলকাতাবাসীর৷

আপাতত: মাঝপথেই কাজ বন্ধ দেশপ্রিয় পার্কে৷ কি হবে, কেউ জানেন না৷ উদ্যোক্তারা, পুলিশ ও শিল্পীকে বসিয়ে সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন৷ যদিও শিল্পের সঙ্গে পুরোটা আপোষ করতে রাজি নন শিল্পী৷ আবার শিল্প নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করতে দিতে রাজি নয় পুলিশ৷ মাঝামাঝি সমাধান সূত্র কি বেরোয় তার দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে পুজোর শিল্পী, উদ্যোক্তা, পুলিশ ও সর্বোপরি পুজোপ্রিয় দর্শকদেরও৷

আরও পড়ুন: বৈকুন্ঠপুর রাজবাড়ীর দুর্গাপুজো, ৫০৮বছর পেরিয়ে আজও অমলিন