মুম্বই: ৩৭ দিনের মাথায় ফের মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয়বার শপথ নিলেন অজিত পাওয়ার। এর আগে দেবেন্দ্র ফড়ণবীশের মন্ত্রিসভায় উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন অজিত। তারপর বেশ কয়েকটি দিন তোলপাড় হয় মারাঠা রাজনীতি।

বিজেপির বিরুদ্ধে কোমর বেঁধে ময়দানে নামে শিবসেনা, এনসিপি ও কংগ্রেস। মারাঠা রাজনীতিতে আরও একবার প্রাসঙ্গিকতা বাড়ে শরদ পাওয়ারের। অনেক দর কষাকষির পর ভাইপো অজিতের মান ভাঙাতেও সক্ষম হন কাকা শরদ। একইসঙ্গে বিজেপিকে সরিয়ে প্রয়োজনীয় বিধায়ক জোগাড় করে মহারাষ্ট্র দখলের রাস্তাও মসৃণ করে ফেলে সেনা-কংগ্রেস-এনসিপির জোট।

সোমবার মহারাষ্ট্র মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ হয়। আগেই ৭ মন্ত্রীকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছিলেন শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে। এদিন আরও ৩৬ জন বিধায়ক মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। যাঁদের মধ্যে অন্যতম উদ্ধব-পুত্র আদিত্য ঠাকরে। মহারাষ্ট্রে বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই দলে গুরুত্ব বাড়ছিল আদিত্য ঠাকরের। একটা সময় তাঁকেই মুখ্যমন্ত্রী পদে বসানোর জল্পনাও শুরু হয়েছিল। কিন্তু আদিত্য ঠাকরেকে এখনই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মানতে চায়নি এনসিপি ও কংগ্রেস।

শেষমেশ সেনা-এনসিপি ও কংগ্রেসের জোটের দফায় দফায় বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নাম ঠিক হয় শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরের। বাবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রাজ্যের দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই মন্ত্রীত্বে হাতেখড়ি হল ছেলে আদিত্যরও। সোমবার আদিত্য মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই একের পর এক নাটক চলতে থাকে মাহারাষ্ট্রে। দীর্ঘ নাটকীয়তার শেষে ২৩ নভেম্বর দেবেন্দ্র ফড়ণবীশের নেতৃত্বে বিজেপি সরকার গঠিত হয় মহারাষ্ট্রে। পরে দ্রুত পতন হয় ফড়নবীশ সরকারের। বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারবেন না জেনে আগেই ইস্তফা দেন ফড়নবীশ। তারপরও দফায় দফায় নাটক চলে মারাঠা রাজনীতিতে। এরই মধ্যে ফড়নবীশ-সঙ্গ ছেড়ে ফের এনসিপিতে ফেরেন শরদ-ভাইপো অজিত। একে একে এনসিপি ছেড়ে যাওয়া বাকিরাও দলে ফেরেন। এনসিপি-শিবসেনা-কংগ্রেস মিলে তৈরি হয় বিজেপি-বিরোধী জোট।

মহারাষ্ট্র বিধানসভায় মোট আসন ২৮৮। নিয়ম অনুযায়ী মোট বিধায়কের ১৫ শতাংশ হিসেবে ৪৩ জনের বেশি মন্ত্রিসভা হতে পারে না। ২৮ নভেম্বর উদ্ধব ঠাকরে-সহ মোট ৭ জন শপথ নিয়েছিলেন। সোমবার বাকিরা শপথ নিলেন। শিবসেনার বিধায়ক আদিত্য ঠাকরে, অনিল পরব, সঞ্জয় রাঠোর, গুলাবরাও পাতিল, দাদা ভুসে ও সন্দীপন ভুমরে শপথ নেন। এনসিপি থেকে মন্ত্রী হচ্ছেন দিলীপ ওয়ালেস পাতিল, ধনঞ্জয় মুন্ডে, অনিল দেশমুখ, হাসান মুশারিফ, রাজেন্দ্র সিংঘনে, নওয়াব মালিক, রাজেশ তোপে, বালাসাহেব পাতিল, জিতেন্দ্র অওয়াধ। কংগ্রেস থেকে মন্ত্রী হচ্ছেন মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক চহ্বাণ, বিজয়, ভারসে গাইকোয়াড়ে, সুনীল কেদার, অমিত দেশমুখ, ঘয়াসমতি ঠাকুর, আসলাম শেইখ ও কেসি পদভি।