নয়াদিল্লি: সিঁদুর পরে শপথ নিতে গিয়েছিলেন সদ্য বিবাহিত সাংসদ তথা অভিনেত্রী নুসরত জাহান। কিন্তু একজন মুসলিম পরিবারের মেয়ে হয়ে কেন তাঁর সিঁথিতে সিঁদুর, এই অভিযোগে দেওবন্দের ফতোয়ার মুখে পড়েছেন তিনি। তবে এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের এই সাংসদের পাশে দাঁড়ালেন বিজেপি নেত্রী সাধ্বী প্রাচী।

মুসলিম ইমাম মুফতি আসাদ ওয়াসিম নুসরতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেছেন, ‘একজন মুসলিম আর এক জন মুসলিমকেই বিয়ে করতে পারেন।’ সেইসঙ্গে সিঁদুর পরার জন্য ফতোয়াও জারি করা হয়েছে দেওবন্দের তরফে। এই পরিস্থিতিতে, সাধ্বী প্রাচী বলেছেন, ‘একজন মুসলিম মহিলা যদি হিন্দু পুরুষকে বিয়ে করে টিপ, মঙ্গলসূত্র পরে তাহলে তা ইসলামে হারাম। অথচ অনেক সময় মুসলিমরাও হিন্দু মেয়েদের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে। তখন যদি সেই হিন্দু মেয়েদের জোর করে বোরখা পরানো হয়, তাহলে তা হারাম নয়।’

সাধ্বী প্রাচীর এই মন্তব্য খুব একটা ভালোভাবে নেননি মুসলিম ইমামরা। মৌলানা কারি বলেন, ‘সাধ্বী প্রাচী উলেমা সম্পর্কে কী জানেন! এদের কোনও কন্ট্রোল নেই। এরা শুধু হেডলাইন তৈরি করার জন্য এই ধরনের মন্তব্য ছুঁড়ে দেন। এরা দেশে ভাগাভাগি চান।’ তিনি আরও বলেন, ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে কোনও ধারণা নেই সাধ্বীর। ইসলাম শান্তি ও ভালোবাসার বার্তা সেয়। আগে উলেমা পড়ে তারপর কথা বলতে বলেন সাধ্বী প্রাচীকে।

নুসরত সাংসদ হয়েই বিয়ে করতে উড়ে গিয়েছিলেন সুদূর তুরস্কে৷ শপথও নিতে পারেননি৷ গত রবিবারই বিয়ে সেরে দেশে ফেরেন নুসরত৷ স্বামি নিখিল জৈনের হাত ধরে বিমানবন্দরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। মঙ্গলবারে বেগুনি পাড় সাদা শাড়িতে লোকসভায় যান সদ্য বিবাহিতা নুসরত৷ কপালে সিঁদুর, হাতে চূড়া। পরিষ্কার বাংলায় শপথ নেন তিনি।

ইমাম মুফতি কাসাম বলেছেন, “ইসলাম কোনও অমুসলিম ছেলেদের বিয়ে করার অধিকার মুসলিম মহিলাদের দেয়নি। সেটা নুসরত করেছেন। শুধু তাই নয় বিয়ের পরে হিন্দু ধর্মের রীতি মেনে সিঁদুর-মঙ্গলসূত্র পরে ইসলামকে অসম্মান করেছেন।” একই সঙ্গে শপথ পাঠের সময়ে নুসরতের মুখে বন্দেমাতরম স্লোগান নিয়েও সরব হয়েছেন ইমাম মুফতি। তিনি বলেছেন, “ইসলাম ধর্মে বন্দেমাতরম বলা যায় না। সাংসদে শপথের সময়ে সেটাই বলেছেন নুসরত। বিষয়টি ইসলাম বিরুদ্ধে। এর বেশি আর কিছু বলব না।”