নয়াদিল্লি: তার একচ্ছত্র ব্যাটিংয়ে কুপোকাত মানুষজন৷ সেই রেশ কাটিয়ে ওঠার আগেই সতর্ক করেছেন গবেষকরা৷ সম্ভবত আগামী বছরের প্রথম দিকেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অস্বাভাবিক মাত্রায় বৃদ্ধি পাবে ডেঙ্গুর প্রকোপ৷

প্রশান্ত মহাসাগরে উঠতি বছরে আসতে চলেছে দু’দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো৷ এল নিনোর প্রভাবেই বাড়বাড়ন্ত হচ্ছে ডেঙ্গুর৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডেরেক কামিংসের কথায়,‘ডেঙ্গু প্রতি বছর বৃহৎ সংখ্যক মানুষকে আক্রমণ করে, কিন্তু আগামী এল নিনোয় ডেঙ্গুর দাপট আরও বাড়তে পারে৷

কামিংস আরও জানিয়েছেন,‘পরবর্তী বছরে এই ডেঙ্গুর প্রকোপ কাটাতে হাসপাতাল বৃদ্ধি করতে হবে, তৎপর হতে হবে স্বাস্থ্য দফতরকে৷ যদি আমরা এই বৃদ্ধি সম্পর্কে আগে থেকেই সচেতন হই,তবে এই প্রতিকূলতা কটিয়ে ওঠা যাবে৷’

গবেষকদের দাবি, ১৯৯৭-৯৮ সালে এল নিনোর প্রভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বৃদ্ধি পেয়েছিল ডেঙ্গুর প্রকোপ৷ ডেঙ্গু ভাইরাস ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় মশার দ্বারা বাহিত হয়৷ প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ৩৯ কোটি মানুষ ডেঙ্গু সংক্রমণের শিকার হয়৷ নির্দিষ্ট কোনও ওষুধ না থাকলেও আগাম সতর্কতা এবং প্রয়োজনীয় শুশ্রূষার সাহায্যে সংকটজনক পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব৷ প্রতিষেধকের সাহায্যে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও বর্তমানে তার লাইসেন্স মেলেনি৷

কামিংস আক্রান্ত বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি এবং পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে প্রায় ৩৫ লক্ষ ডেঙ্গু আক্রান্তের কেস নিয়ে গবেষণা করেছেন৷ আন্তর্জাতিক এই গবেষণায় বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সহ সারা বিশ্বের ১৮টি প্রতিষ্ঠান থেকে বিজ্ঞানীরা যোগ দেন৷

এই গবেষণার অন্যতম সহায়ক মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লাম শান কিট বলেছেন, ‘এল নিনো আসতে পারে, এই তথ্যই আমাদের কাছে একটি খারাপ পরিস্থিতির ইঙ্গিত বয়ে আনছে৷ তবে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ডেঙ্গুর প্রভাব রোধ করা যাবে৷’ ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেসের একটি জার্নাল থেকে এই তথ্য মিলেছে৷

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।