নয়াদিল্লি: হাড়াকাঁপানো ঠান্ডায় জবুথবু রাজধানী দিল্লি। শীতের সঙ্গেই দাপট ঘন কুয়াশার। জাঁকিয়ে ঠান্ডা পড়েছে দিল্লি এবং সংলগ্ন এলাকায়। কুয়াশায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় দেরিতে চলছে ট্রেন এবং বিমান। রেলমন্ত্রক সূত্রে খবর, কুয়াশার জেরে ৩০টি ট্রেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশ কিছু সময় দেরিতে চলছে। কুয়াশায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার জেরে বেশ কিছু বিমানের ওঠানামাতেও দেরি হচ্ছে। একইসঙ্গে কুয়াশার জেরে কয়েকটি বিমান বাতিলের সম্ভাবনা রয়েছে।

জাঁকিয়ে ঠান্ডার সঙ্গে ভোর থেকে ঘন কুয়াশায় এককথায় বিপর্যস্ত দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকার স্বাভাবিক জনজীবন। ঘন কুয়াশার জেরে সোমবার সকাল থেকেই দিল্লির রাস্তায় যান চলাচলে ভযানক সমস্যা তৈরি হয়। কুয়াশায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় হেঁটে যেতেও দুর্ভোগে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। সকালেই দিল্লির একাধিক রাস্তায় আলো জ্বালিয়ে চলতে দেখা যায় গাড়ি।

কুয়াশায় দৃশ্যমানতা কম থাকায় স্বাভাবিকভাবেই রাজধানীর একাধিক রাস্তায় গাড়ির গতি ছিল শ্লথ। সকাল থেকেই তীব্র যানজটে নাকাল হতে হয় শহরবাসীকে। সোমবার সকালে দিল্লি এবং নয়ডাতেই কুয়াশার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছে মৌসম ভবন।

আরও পড়ুন – ঠাণ্ডায় জুবুথুবু দেশ, আসছে দু’দিনে বাড়তে পারে তাপমাত্রা

রবিবার থেকেই পারদ আরও নামতে শুরু করেছে দিল্লি-সহ গোটা উত্তর ভারতে। সোমবারও জাঁকিয়ে শীতে জবুথবু দিল্লিবাসী। সোমবার সকালে দিল্লির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আরও কমে হয় ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে আগামী ৪৮ ঘণ্টা এই তীব্র ঠান্ডার পরিবেশই থাকবে সমগ্র উত্তর ভারতে।

এদিকে সোমবার সকাল থেকেই দিল্লি এবং সংলগ্ন এলাকায় বইছে কনকনে শীতল উত্তুরে হাওয়া। একই অবস্থা উত্তর ভারতের বাকি রাজ্যগুলিতেও। উত্তুরে হাওয়ার দাপটে কাঁপছে উত্তর ভারতের প্রায় সব জেলা। ইতিমধ্যেই দিল্লি-সহ একাধিক রাজ্যে শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে মৌসম ভবন। আগামী দু’দিন আবহাওয়ার পরিস্থিতি আরও সঙ্গীন হবে বলেই মনে আশঙ্কা আবহবিদদের। এমনকী নতুন বছরের শুরুতে দিল্লিতে শিলাবৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

শুধু দিল্লি নয়। পার্শ্ববর্তী হরিয়ানা, রাজস্থান, জম্মু-কাশ্মীর, লাদাখ, দ্রাস সর্বত্রই জাঁকিয়ে ঠান্ডা পড়েছে। ভূস্বর্গের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের অনেক নীচে নেমেছে । জমে গিয়েছে ডাল লেক। লাদাখ এবং দ্রাসে পারদ পৌঁছেছিল মাইনাস ১৬ এবং মাইনাস ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। প্রবল ঠান্ডা শ্রীনগরেও । গত কয়েকদিনের একটানা তুষারপাতে বিপর্যস্ত এলাকার স্বাভাবিক জনজীবন। প্রবল শীতে হরিয়ানার স্কুলগুলি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।