নয়াদিল্লি : স্বাধীনতা দিবসে আক্ষরিক অর্থেই স্বাধীন হচ্ছে ভারত। সেদিন ভারতের আকাশে উড়বে না কোনও চিনা ঘুড়ি। বিক্রি হবে না কোনও চিনা মাঞ্জা। নয়াদিল্লির ঘুড়িব্যবসায়ীদের এমনই সিদ্ধান্ত। দিল্লির লাল কুঁয়া এলাকার ব্যবসায়ীদের সিদ্ধান্ত এবছর তাঁরা কোনও চিনা ঘুড়ি বা মাঞ্জা বিক্রি করবেন না।

ভারতের তৈরি ঘুড়ি আর মাঞ্জা পাওয়া যাবে তাঁদের দোকানে। উল্লেখ্য লাল কুঁয়া দিল্লির সবচেয়ে বড় ঘুড়ি কেনাবেচার পাইকারি বাজার। এই ব্যবসায়ীরা শুধু চিনা ঘুড়ি বা মাঞ্জা না বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েই থেমে থাকেননি। তাঁরা ক্রেতাদের স্থানীয় বা দেশে উৎপাদিত ঘুড়ি কিনতেও উৎসাহিত করবেন বলে জানিয়েছেন।

মেড ইন চায়নার বদলে এবার মেড ইন ইন্ডিয়াতে জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভোকাল ফর লোকাল শ্লোগানকে সাফল্য দিতে চাইছেন তাঁরা। জি মিডিয়ার এক সূত্র বলছে, স্থানীয় বাসিন্দারাও ভারতে তৈরি ঘুড়ি কিনছেন এবার। বিক্রি বাড়ছে ভারতীয় মাঞ্জারও।

প্রতিবছরই স্বাধীনতা দিবসে দিল্লির আকাশে দেখা যায় রং বেরংয়ের ঘুড়ি। যার মধ্যে ৮০ শতাংশই চিনা ঘুড়ি বলে জানাচ্ছেন বিক্রেতারা। তবে এবার করোনা ভাইরাসের জেরে খুব বেশি বিক্রি নেই বলেও জানিয়েছেন এই বিক্রেতারা।

বিক্রেতাদের দাবি প্রতি বছর এই বাজার থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার চিনা ঘুড়ি ও মাঞ্জা বিক্রি হয়। তবে এবার ভারত চিন সীমান্ত সংঘাতের জেরে কোনও বিক্রেতাই চিনা পণ্য রাখেনি। চিনা রাখির ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল। গত কয়েক বছর ধরেই এদেশের হোলি কিংবা দেওয়ালি যে কোনও উৎসবের সময় চিনা পণ্যে বাজারে ছেয়ে যেতে দেখা যায়।

বিশেষত চিন থেকে আসা ওইসব পণ্য খুবই সস্তা হওয়ায় ক্রেতাদের ভীষণভাবে আকৃষ্ট করত। ফলে ইদানিং উৎসবের মরসুমে এদেশের পণ্যকে পিছনে ঠেলে দিতে দেখা যেত চিনা পণ্যকে।

ব্যবসায়ীদের সংগঠন সিএআইটি-র দেওয়া তথ্য অনুসারে, প্রতি বছর প্রায় ৫০ কোটি রাখি বিক্রি হয়ে থাকে যার বাজার মূল্য ৬০০০ কোটি টাকা। এরমধ্যে গত কয়েক বছর ধরে চিনা রাখি বিক্রি হয় ৪০০০ কোটি টাকা এবং বাজারের বাকি ২০০০ কোটি টাকা এদেশের রাখি প্রস্তুতকারীদের দখলে ছিল। কিন্তু এবছর কোনও চিনা রাখি বিক্রি হয়নি।

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।