নয়াদিল্লি: ভোটের আগে পুলিশের দাবি ঘিরে দিল্লিতে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা। শাহিনবাগে সিএএ বিরোধী আন্দোলনে গুলি চালানোর ঘটনায় ধৃত যুবক আম আদমি পার্টির সদস্য বলে দাবি দিল্লি পুলিশের। দিল্লি পুলিশের এই দাবি ঘিরেই সরব হয়েছে আপ-সহ বিজেপি বিরোধী একাধিক রাজনৈতিক দল। আপ-এর দাবি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশেই দিল্লি পুলিশের এমন দাবি। যদিও আপ-এর দাবিকে আমল দিতে নারাজ পদ্ম শিবির।

শনিবার শাহিনবাগে সিএএ বিরোধী আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল কপিল গুর্জর নামে এক যুবক। ধাওয়া করে যুবককে ধরে ফেলে পুলিশ। আদালতের নির্দেশে ধৃত যুবক এখনও পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। আগে দিল্লি পুলিশের দাবি ছিল, শাহিনবাগ আন্দোলনের জেরে যানজটে বিরক্ত হয়েছিল হচ্ছিল। বিরক্ত হয়েই গুলি চালিয়েছিল কপিল।

এরপর দিল্লি পুলিশের অপরাধ দমন শাখার অফিসাররাও দফায় দফায় জেরা করেন ধৃত যুবককে। পুলিশের দাবি ক্রাইম ব্রাঞ্চের অফিসারদের কাছে কপিল জানিয়েছে, কপিল ও তার বাবা বছরখানেক আগে আপ-এ যোগ দিয়েছে। কপিলের এই দাবি নিয়ে একটি ছবিও প্রকাশ করেছে দিল্লি পুলিশ। সেই ছবিতে কপিলকে আপ নেতা সঞ্জয় সিংদের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে।

৮ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে বিধানসভা ভোট। দিল্লির ৭০টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে শনিবার। তার আগে পুলিশের এই দাবি আপ-এর অস্বস্তি যে অনেকটা বাড়িয়ে দিল তা বলাই বাহুল্য। অন্যদিকে, আপ-এর বিরুদ্ধে এই ছবিকে ঢাল করেই ভোট ময়দানে এবার প্রচারে ঝড় তুলতে চাইবে গেরুয়া শিবির।

গত কয়েকদিন ধরেই দিল্লিতে বিধানসভা ভোটের প্রচার জমজমাট। প্রচারে বেরিয়ে প্রায় প্রতিদিনই শাসক-আপ-কে তুলোধনা করছেন বিজেপি নেতারা। কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আক্রমণ শানাচ্ছে পদ্ম শিবির। অন্যদিকে, উন্নয়নকে ঢাল করেই ক্ষমতায় আসতে আত্মবিশ্বাসী কেজরিওয়াল-ব্রিগেড। একইভাবে ফের দিল্লির মসনদ দখল করতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে কংগ্রেসও।