নয়াদিল্লি: একেবারে হিন্দি সিনেমার কায়দায় খুন করা হল প্রেমিকাকে। শুধু তাই নয়, প্রমান লোপাটের জন্য দেহ টুকরো টুকরো করে কেটে ভাসিয়ে দিল খালের জলে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে দিল্লির তুর্কমান গেটের কাছে।

পুলিশ জানিয়েছে খুন এবং প্রমান লোপাটের অভিযোগে ধৃত প্রেমিকের জায়গা আপাতত শ্রীঘরে হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ব্যক্তি হলেন তুর্কমান গেট এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ আয়ুব ভিকি (৩২)। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল শনিবারই ওই ব্যক্তিকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করেছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, গত চার বছর আগে দিল্লির জিবি রোডের গনিকালয়ে গিয়ে আয়ুবের সঙ্গে পরিচয় হয় লতা আলিয়াস সালমার সঙ্গে। সেখান থেকেই তাঁদের দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। জানা গিয়েছে টানা চার বছর আয়ুব লতার সঙ্গে ঘুরলেও ২০০৮ সালে আয়ুব অন্য এক মহিলাকে বিয়ে করেন। বর্তমানে তাঁদের তিন সন্তানও রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, ১০ বছরের বিবাহিত জীবন এবং সন্তান থাকতেও ধৃত আয়ুব লতাকে আবার বিয়ে করার জন্য চাপ দিতে থাকে, এমনকি অভিযুক্ত তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকাকে আগের কাজ ছেড়ে দেওয়ার কথাও বলে।

কিন্তু বারবার লতার থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়ে শেষ পর্যন্ত ধৃত তাকে খুন করার ছক কষে। পরিকল্পনা মাফিক কাজও শেরে ফেলেছিল আয়ুব । কিন্তু এত গোপনীয়তা সত্ত্বেও শেষ রক্ষা হল না তাঁর। অবশেষে ধরা পড়ল পুলিশের জালে।

দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের তরফে জানানো হয়েছে যে, ‘২০ অগস্ট সন্ধ্যা বেলায় দুজনে একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার জন্য লতা কে ডেকে পাঠায় আয়ুব, এরপরেই লতাকে স্কুটি করে নিয়ে যায় পূর্ব পরিকল্পনামাফিক জায়াগায়, বাওয়ানা খালের ধারে’। জানা গিয়েছে খুনের পরিকল্পনা থাকায় আগে থেকেই আয়ুবের কাছে একটি ধারালো ছুরি রাখা ছিল। শুধু তাই নয়

প্রেমিকাকে খুনের জন্য বেশ কিছুক্ষন খালেরধারে দাঁড়িয়ে সুবর্ণ সুযোগের অপেক্ষায় ছিল ধৃত আয়ুব। এরপরেই গলায় ধারালো ছুরি চালিয়ে প্রেমিকার মৃত্যু নিশিত করে আয়ুব। আরও জানা গিয়েছে, প্রমান লোপাটের জন্য তারপরে লতার দেহ পাঁচ টুকরো করে কেটে খালে ফেলে দেয় আয়ুব। কিন্তু পরের দিনই খালের পাশে একটি ক্ষত বিক্ষত দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এতটাই তীব্রভাবে আঘাত করে কুপিয়ে খুন করা হয়েছিল যে, মেয়েটির দেহ শনাক্ত করতে পারছিল না পুলিশ।

জানা গিয়েছে, ৩০ অগস্ট দিল্লি পুলিশের কাছে আয়ুবের সম্পর্কে খবর আসে যে আয়ুব দিল্লির তুর্কমান গেটে রয়েছে এবং সে দিল্লি ছেঁড়ে পালানোর চেষ্টা করছে বলে জানা যায়। খবর পেয়ে তুর্কমান গেট এলাকায় পৌঁছায় দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। সেখান থেকেই খুনের সময় ব্যবহৃত স্কুটি সহ গ্রেফতার করা হয় আয়ুবকে।