ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত ছবি৷

নয়াদিল্লি: পেটে খিদে৷ খিদের জ্বালায় চোখ দিয়ে অনবরত বেরিয়ে চলে জল৷ তিন বছরের ছোট্ট মেয়েটির কান্না থামাতে দুধের বোতলে মদ ভরে খাওয়াতো বাবা৷ পাড়া প্রতিবেশীদের কাছ থেকে এমন গুরুতর অভিযোগ পেয়ে অভিযুক্তের বাড়িতে হানা দেয় দিল্লির মহিলা কমিশন৷ সঙ্গে যায় পুলিশ৷ সেখান থেকে মেয়েটিকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেন তারা৷ তবে এই ঘটনায় কোনও অভিযোগ এখনও অবধি দায়ের হয়নি৷

দিল্লির প্রেম নগর এলাকার ঘটনা৷ প্রতিবেশিরা জানিয়েছেন এক বছর আগে মেয়েটির মা মারা যায়৷ বাবা পেশায় রিকশা চালক৷ কাজে বেরনোর সময় মেয়েকে ঘরে একা রেখেই যেত৷ প্রতিবেশিদের কারোর কাছ থেকে কোনও সাহায্য নিত না সে৷ অভিযোগ, প্রতিদিন সে মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরত৷ মেয়ের যত্ন নিত না৷ এমনকী খিদে পেলে দুধের বোতলে মদ ভরে দিত৷

প্রতিবেশিরা ভুল কিছু বলেননি তা শিশুটির অবস্থা দেখে বুঝতে পারেন কমিশনের কর্তাব্যক্তিরা৷ তিনদিন কিছু না খেতে পেয়ে শুকিয়ে গিয়েছিল সে৷ মেয়েটিকে যখন তারা উদ্ধার করেন তখন শরীরে জ্বর৷ গায়ে ক্ষত চিহ্নের দাগ দেখতে পেয়েছেন তারা৷ ডাক্তারি পরীক্ষায় মেয়েটির যৌনাঙ্গে ঘাঁ এর প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে৷ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ডাইপার না বদলানোয় সেখানে সংক্রমণ হয়ে গিয়েছে৷ তারা যখন মেয়েটিকে উদ্ধার করেন তখন বাড়িতে পাশের ঘরে ঘুমাচ্ছিল বাবা৷ আর ঘর ভরতি শুধু খালি মদের বোতল৷

প্রতিবেশিরা দিল্লি মহিলা কমিশনকে জানিয়েছেন, মদ্যপ অবস্থায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা এই ভাবে ঘুমিয়ে থাকে৷ এমনকী মেয়ে কাঁদলে তাকে খেতে দেয় না৷ কমিশনের কর্তাদের ডাকে ঘুম থেকে ওঠার পর উল্টে তাদের উপরই চোটপাট করে মেয়েটির বাবা৷ কোনওরকম সহযোগিতা করতেও অস্বীকার করে৷ এরপর মেয়েটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ চিকিৎসার পাশাপাশি কাউন্সেলিংও করানো হচ্ছে৷ হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তাকে হোমে রাখা হবে৷

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ