নয়াদিল্লি- রণক্ষেত্র অবস্থা দিল্লির। টানা ৪৮ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ২৪ জনের। আহত প্রায় ২০০-র কাছাকাছি। আর এই হিংসায় প্ররোচনার অভিযোগ উঠেছে কপিল মিশ্র সহ-আরও বেশ কয়েকজন বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে। কিন্তু তাঁদের বিরুদ্ধে এখনও কোনও পদক্ষেপ করেনি দিল্লি পুলিশ।

প্ররোচনা দেওয়া বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের না করায় দিল্লি হাইকোর্ট দিল্লি পুলিশের নিন্দা করেছে। যদিও দিল্লি পুলিশের দাবি তারা কোনও ভিডিওই দেখেনি। তাই কোর্টেই চারটি ভিডিও চালানো হয়। ভিডিওগুলিতে বিজেপি নেতাদের হিংসায় প্ররোচনা দিতে দেখা যাচ্ছে।

হাই কোর্টের বিচারপতি বলছেন, “আমি দিল্লি পুলিশের অবস্থান দেখে অবাক হয়ে গিয়েছি। আমি নিশ্চিত আপনাদের কমিশনারের অফিসে কোনও টিভি নেই। তাই এখানেই আপনারা ভিডিও ক্লিপগুলি দেখুন।”

একটি ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে, বিজেপি নেতা কপিল শর্মা রীতিমতো হুমকি দিচ্ছেন। এই প্ররোচনার জেরেই দিল্লির হিংসা এই রূপ নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে দিল্লি পুলিশকে হুমকি দিয়ে তিনি বলছেন, “তিনদিনের মধ্যে প্রতীবাদীর রাস্তা খালি না করে দিলে আমরা পুলিশের কথাও শুনব না। ডোনাল্ড ট্রাম্প থাকা পর্যন্ত আমরা শান্তি বজায় রাখব। কিন্তু পুলিশের কথাও শুনব না আমরা। আমরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হবো।”

আর একটি ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে বিজেপি নেতা প্রবেশ ভর্মা শাহিনবাগের প্রতিবাদীদের খুনি ও ধর্ষক বলে দাবি করেছেন। এএনআইকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলছেন, “লক্ষ লক্ষ মানুষ শাহিনবাগে রয়েছে। দিল্লির মানুষকে ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ওরা আপনাদের ঘরে ঢুকে মেয়ে-বোনেদের ধর্ষণ করবে ও খুন করবে। এখনও সময় রয়েছে। কাল মোদীজি ও অমিত শাহ আপনাদের বাঁচাতে আসবে না।”

এখানেই থামেননি তিনি। প্রবেশ দিল্লি নির্বাচনের সময়ে বলেছিলেন, “দিল্লি নির্বাচনে যদি বিজেপি জেতে তাহলে শাহিনবাগে একজনকেও দেখা যাবে না। ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে আমায় এক মাস সময় দেবেন। একটা মসজিদও ভেঙে ফেলতে ছাড়ব না।”

আর একটি ভিডিওয় বিজেপি নেতা অনুরাগ ঠাকুরকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “গোলি মারো সালো কো। একটি মিছিলে তিনি বলছেন, সমস্ত দেশদ্রোহীদের গুলি করে মারো। অনুরাগ বলছেন, দেশকে গদ্দারো কো। তার উত্তরে জনতা বলছে, গোলি মারো সালো কো।”

শেষ চালানো ভিডিওয় বিজেপি নেতা অভয় ভর্মাকে দেখা যাচ্ছে। তিনি একদল লোকজন নিয়ে রাস্তায় একটি মিছিল করছেন। সেই মিছিলে প্ররোচনামূলক স্লোগান তুলতে দেখা যাচ্ছে তাঁকে। সেখানে অভয় ভর্মা বলছেন, “পুলিশের হত্যাকারীদের দেখলেই গুলি করো।”

যদিও অভয়ের দাবি, “মানুষ জোর করে দোকানপাট বন্ধ করে দিচ্ছে। আমি সেগুলি পুনরায় খুলতে গিয়েছিলাম। তখন ওখানকার মানুষ স্লোগান তুলছিল। কিন্তু আমি ওদের স্লোগান তুলতে বলিনি। ভিড়ের মাঝে মানুষকে সচেতন থাকতে হয়।”

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ