নয়াদিল্লি: ২০১২ সালের এক রাতের ঘটনা কাপিয়ে দিয়েছিল সারা দেশ। নির্ভয়া গণধর্ষণ কাণ্ডের পরে সারা দেশ এক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সকলে মিলে এক সুরে একটাই দাবি জানিয়েছিল দোষীদের শাস্তি। আর সেই মামলার ক্ষেত্রে এক নজির স্থাপন করল দিল্লি সরকার।

নির্ভয়া গণধর্ষণ কাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত বিনয় শর্মার ক্ষমা প্রার্থনা খারিজ করেছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সরকার। তারা এই মর্মে লেফটেন্যান্ট গভর্ণরের কাছে চিঠিও পাঠিয়েছে।

দিল্লির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন লেফটেন্যান্ট গভর্ণর অনিল বাইজালের কাছে চিঠি পাঠিয়ে জানিয়েছেন, নির্ভয়া ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং ঘৃণ্য। আর এই ধরণের অপরাধের জন্য দোষীদের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়। তিনি কঠোর ভাবে অইও অভিযুক্তের ক্ষমা প্রার্থনা খারিজ করেছেন বলেও জানিয়েছেন।

যদিও এই আবেদন সরকার প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানা গিয়েছে। এরপরে পুনরায় তা রাষ্ট্রপতি ভবনে পাঠানো হবে বলেও জানা গিয়েছে। এই আবেদন দিল্লি সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতরে তিহার জেল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে পাঠানো হয়েছিল।

শনিবার এই বহুল চর্চিত মামলাতে বারংবার মানবাধিকারের বিষয়টি সামনে এসেছে। এমনকি অনেক সংগঠন এই বিষয়টি মাথাতে রেখে রায় দেওয়ার জন্য আদালতকে অনুরোধ করেছিল। তবে অ্যাডিশানাল সেশন জাজ সতীশ অরোরা জানিয়েছেন, যদি অভিযুক্তের মানবাধিকারের বিষয়টি মাথাতে রাখতেই হয় তাহলে নির্যাতিতার ক্ষেত্রেও সেই একই কাজ করা উচিত।

তিনি আরও জানিয়েছেন নির্ভয়া কাণ্ডের নির্যাতিতা তরুণীর অভিভাবক ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। যাতে আদালতের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হয় তা তারা জানিয়েছেন।

৪ নভেম্বর চার আসামির মধ্যে তিনজন তিহার জেলের তরফ থেকে তাদের দেওয়া নোটিশের জবাব দিয়েছিলেন। অভিযুক্তরা এই দিনে তাদের আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। অভিযুক্তরা ক্ষমা প্রার্থনা করার পরিবর্তে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

এই বছরের জুনে নির্যাতিতা তরুণীর অভিভাবক পাতিয়ালা হাউস আদালতে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে জানিয়েছেন যাতে বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করা হয়। প্রাথমিকভাবে চারজনের মধ্যে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে প্রানভিক্ষার আবেদন করেছিলেন। যা নিয়ে এখনও কোন সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি আদালতের তরফ থেকে।