নয়াদিল্লিঃ  চাপ বাড়ল রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মুখ্যমন্ত্রী ভাইপোকে তলব করল দিল্লির একটি আদালত। শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভুয়ো হলফনামা জমা দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতে নোটিশ নিয়ে যদিও এখনও পর্যন্ত স্পিকটি নট তৃণমূল নেতৃত্ব। যদিও ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে ডায়মন্ডহারবারের সাংসদকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বিরোধীরা। তাঁদের মতে, তৃণমূল সর্বস্তরে দুর্নীতিতে জড়িয়ে। এবার প্রশ্নের মুখে যুবরাজের শিক্ষাগত যোগ্যতাও।

জানা গিয়েছে, ২০১৪ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় অভিষেকের বিরুদ্ধে শিক্ষাগত যোগ্যতার ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ উঠে। যা পরবর্তী কালে আদালত পর্যন্তও গড়ায়। এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হলে অভিষেককে আদালতে হাজিরা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন অতিরিক্ত মুখ্য মেট্রপলিটন বিচারক সমর বিশাল। আগামী ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে আদালতে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারক জানিয়েছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। ভারতীয় জনপ্রতিনিধিত্ব আইনে ভুয়ো হলফনামা জমা দেওয়ার অভিযোগে তলব করা হয়েছে। অভিষেকের বিরুদ্ধে এই ভুয়ো হলফনামা দেওয়ার অভিযোগ আনেন আইনজীবী নীরজ। বাংলা এক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর মোতাবেক আইনজীবীর অভিযোগ ছিল, অভিষেক এমবিএ হওয়ার যে তথ্য দিয়েছেন, তা ভুয়ো। পাশাপাশি স্নাতক ডিগ্রি নিয়েও তিনি তথ্য গোপন করেছেন। এই বিষয়ে অভিযোগকারীর বক্তব্য, সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে অভিষেক ভুল তথ্য দিয়েছেন। নিজেকে একজন উচ্চশিক্ষিত হিসেবে তুলে ধরে অভিষেক জনমানসে ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই আইনজীবী।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের জুলাই মাসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বভারতীয় তৃণমূল যুব’র জাতীয় সভাপতি হিসাবে তাঁর রাজনৈতিক কর্মজীবন শুরু করেন। ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ডায়মন্ডহারবার লোকসভা কেন্দ্র
থেকে লড়াই করেন যুবরাজ। সিপিএমের আবুল হাসনতের বিরুদ্ধে দাঁড়ান অভিষেক। সেবারই প্রথম হাসনাতকে হারিয়ে ডায়মন্ডহারবার লোকসভা থেকে সাংসদ হিসাবে প্তহ চলা শুরু হয় তাঁর। ২০১৪ সাল থেকে লাগাতার ওই কেন্দ্রেরই সাংসদ হয়ে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী ভাইপো। কিন্তু প্রথমবারে ভোটে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে ভুয়ো তথ্য দেওয়ার অভিযোগ উঠল তাঁর বিরুদ্ধে।