নয়াদিল্লি: আইনজীবীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলে পথে নামলেন পুলিশকর্মীরা। মঙ্গলবার সকালবেলা দিল্লি পুলিশের সদর দফতরে এমনই দৃশ্য দেখা গেল।

ঘটনার সূত্রপাত ২ নভেম্বর৷ দিল্লির তিস হাজারি কোর্টে পারকিংকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন আইনজীবী-পুলিশকর্মীরা। প্রবল সংঘর্ষে পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেন আইনজীবীরা। সংঘর্ষে আহত হন ২০ পুলিশকর্মী। আইনজীবীদের তরফ থেকেও জানানো হয় তাঁদেরও প্রায় ৪০ জন আইনজীবী জখম হয়েছেন।

এই ঘটনার পরের দিনই আদালতের এজলাসে ওঠে এই বিষয়টি । আদালত এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দুই উচ্চপদস্থ আধিকারিককে বদলি করে দেয়। আইনজীবীদের ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি সাসপেন্ড করা হয় আরও দুই পুলিশকর্মীকে। আর ঠিক এখানেই ক্ষোভ জমেছে পুলিশকর্মীদের মনে। শুধুমাত্র আইনজীবীদের জন্যই ক্ষতিপূরণ কেন? এই নিয়ে অসন্তোষ জমে পুলিশ মহলে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পুলিশকর্মীদের সঙ্গে এই ধরনের শাস্তির প্রতিবাদও জানান বেশ কয়েকজন প্রাক্তন পুলিশকর্মী।

এ দিনের প্রতিবাদে ছিল না কোনও স্লোগান বা কোনও দাবি আদায়ের ডাক। পুলিশকর্মীরা হাতে কালো কাপড় বেঁধে হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে নিঃশব্দেই প্রতিবাদ জানান।আদালতের এই বিচারের পরেও পুলিশকর্মীরা পাশে পাননি কোনও উচ্চপদস্থ আধিকারিককে। এরফলে তাঁদের মনোবল তলানিতে ঠেকেছে বলে জানান তারা। প্ল্যাকার্ডে হাতে পুলিশকর্মীদের মধ্যে একজনের প্ল্যাকার্ডে লেখা রয়েছে, ‘হাউ ইজ দ্য জোশ? লো স্যার’

চলতি বছরে পাকিস্তানে ভারতের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের ঘটনাকে অবলম্বন করে একটি হিন্দি সিনেমা তৈরি হয়৷ সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নামে ওই সিনেমার জনপ্রিয় সংলাপ ছিল ‘হাউ ইজ দ্য জোশ?’ মূলত নিরাপত্তারক্ষীদের মনোবল বাড়াতে ‘ভোকাল টনিক’ হিসাবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই বাক্যের ব্যবহার। যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের সুরক্ষার স্বার্থে আইন-শৃঙ্খলার উপর জোর দিতে বাহিনীর মনোবল বাড়ানোর কথা বলছেন। সেখানে দিল্লির এই ঘটনা পুলিশকর্মীদের মনোবল ভেঙে দিতে পারে বলে মত পুলিশ আধিকারিকদের।
এই প্রতিবাদে সামিল হওয়া এক পুলিশকর্মী জানান, ‘ভিডিওতে পরিস্কার দেখা যাচ্ছে দুই পক্ষই সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে, তবে শুধুমাত্র আইনজীবীরাই ক্ষতিপূরণ কেন পাবেন!’

এই ঘটনা প্রসঙ্গে ক্ষোভ উগরে দেন আরও এক পুলিশকর্মী, ‘আহত পুলিশকর্মীদের দেখতে হাসপাতালে কেউ আসে নি। পুলিশের উপরমহলের কোনও কর্তাও আসেনি। মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালও শুধু আইনজীবীদের দেখতে গেলেন।’আইনরক্ষকরা মার খেলেও কোনও বিচার জোটে না, এমনই আক্ষেপের সুর ভেসে বেড়াচ্ছে দিল্লি পুলিশের অন্দর মহলে।