সুভীক কুন্ডু, কলকাতা ২৪x৭: দক্ষিণ আফ্রিকা যেমন কোন দিনও বিশ্বকাপ যেতেনি, তেমনি কেরিয়ারে আজও আইপিএল অধরা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের৷

ক্রিকেটার-অধিনায়ক হিসেবে না পারলেও মেন্টর হিসেবে দিল্লি ক্যাপিটালসকে আইপিএল জয়ের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন৷ কোচ পন্টিংকে সঙ্গী করে টিমের বডি ল্যাঙ্গোয়েজে এনে দিয়েছিলেন আমূল পরিবর্তন৷ পৃথ্বী থেকে পন্ত, দিল্লির তরুণ তুর্কিদের মোটিভেশনাল দাওয়াইয়ে চাঙ্গা করে দিয়েছিলেন মহারাজ৷ ফলও মিলে ছিল হাতে নাতে৷

আরও পড়ুন- দাদার দিল্লি’র ব্যান্ড বাজিয়ে ফাইনালে ধোনির ‘হুইসেল পডু’

রানের ফোয়ারায় ধাওয়ান, পন্তের দায়িত্বশীল ইনিংস৷ পৃথ্বীর উপর আস্থা রাখায় এলিমিনেটরের মতো হাইভোল্টেজ মঞ্চে তাঁর ব্যাটে দুরন্ত অর্ধশতরান৷ টুকরো টুকরো ছবিগুলোই জানান দিচ্ছিল, অন্য দলগুলির থেকে কোথায় এগিয়ে রাজধানীর ফ্র্যাঞ্চাইজি৷ ১৪ ম্যাচের ৯টিতে জিতে লিগ পর্বে পয়েন্ট টেবিলের তিন নম্বরে শেষ করেছিল দিল্লি ক্যাপিটালস৷ সেই সঙ্গে সৌরভের হাত ধরেই ২০১২-পর সাত বছরের খরা কাটিয়ে প্লে-অফ পাকা করে শ্রেয়সরা৷

আরও পড়ুন- ১০ মরশুমে ৮ ফাইনাল, ধোনির চেন্নাইয়ের সিংহগর্জন

প্রত্যাশা জাগালেও শেষ পর্যন্ত অবশ্য ফ্র্যাঞ্চাইজিকে চ্যাম্পিয়ন করে জামা ওড়ানো হল না সৌরভের৷ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ন্যাটওয়েস্ট সিরিজের ফাইনালে(২০০২সাল)  ৩২৬ রান তাড়া করে ভারত ম্যাচ জিতে অসম্ভবকে সম্ভব করায় লর্ডসের গ্যালারিতে জামা উড়িয়েছিলেন মহারাজ৷ দিল্লিকে প্রথমবারের জন্য আইপিএল চ্যাম্পিয়ন করে,দীর্ঘ ১৭ বছর পর এবার ডাগআউটে জামা ওড়ালে অবাক হওয়ার কিছু ছিল না৷

আরও পড়ুন-বিশ্বকাপের আগে ওয়ার্নারকে কটাক্ষ বার্মি আর্মির

কিন্তু দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে দলের হতশ্রী পারফর্ম্যান্সে আইপিএল ট্রফি ছুঁয়ে দেখা অধরাই থেকে গেল ‘প্রিন্স অফ ক্যালকাতা’-র৷ শুক্রবার ১৪৭ রানে পুঁজির সম্পদ নিয়ে লড়াইয়ে নেমে অভিজ্ঞ চেন্নাইয়ের কাছে ১ ওভার বাকি থাকতে ৬ উইকেট ম্যাচ হারায় দ্বাদশ আইপিএল দিল্লির অভিযান শেষের সঙ্গে সঙ্গে এবারের মতো সৌরভের আইপিএল জয়ের স্বপ্নেরও সলিলসমাধি হল বলা চলে৷

আরও পড়ুন- আইপিএল ফাইনালে মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে রেকর্ড ভালো না চেন্নাইয়ের

নাইট জার্সিতে ২০০৮-১০, তিন মরশুম খেলেছেন সৌরভ৷ তাঁর নেতৃত্বে তিনবারই গ্রুপ পর্বে শেষের দিকে থেকেই অভিযান শেষ করেছিল কেকেআর৷ পরে পুণের জার্সিতে দুই মরশুম খেলেও আইপিএল ট্রফি ছুঁয়ে দেখা হয়নি৷ আর এবার তীরে এসে ডুবল তরি৷ আইপিএলে আজও ট্রফি ভাগ্য ফেরাতে পারলেন না মহারাজ৷