বিশাখাপত্তনম: ইতিহাসের পুণরাবৃত্তি৷ ২০১৬ আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে খলিল আহমেদের বলে শেষ রান নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন কীমো পল৷ চলতি আইপিএলের এলিমিনেটরে ফিরে এল সেই স্মৃতি৷ ২ বলে জয়ের জন্য দরকার ২ রান৷ ৮ উইকেট খুইয়েছে দল৷ এই অবস্থায় জয়ের জন্য দিল্লি তাকিয়েছিল কীমোর দিকে৷ সানরাইজার্সের জার্সিতে বোলার ছিলেন সেই খলিল আহমেদ৷ এবারও ভারতীয় তরুণকে পরাস্ত করেন ক্যারিবিয়ান তারকা৷ ওভারের পঞ্চম বল বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে জয় কীমো এনে দেন দিল্লি ক্যাপিটালসকে৷

অপেক্ষাকৃত সহজ লক্ষ্য৷ শুরুটাও হয় দুরন্ত দারুণ৷ তবু মিডল অর্ডারে পর পর উইকেট হারিয়ে বসায় সহজ কাজটাই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়৷ একেবারে শেষ ওভার পর্যন্ত উত্তেজনা জিইয়ে রেখে দিল্লি শেষমেশ এলিমিনেটরের বাধা টপকে যায়৷ সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে আইপিএল থেকে ছিটকে দিয়ে দিল্লি ক্যাপিটালস কোয়ালিফায়ার-টু’এর টিকিট৷

আরও পড়ুন: চোটে কাবু রিচার্ডসনের বদলি রিচার্ডসনকেই বেছে নিল অস্ট্রেলিয়া

প্রথমে ব্যাট করে হায়দরাবাদ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬২ রান তোলে৷ জবাবে ১৯.৫ ওভারে ৮ উইকেটের বিনিময়েই ১৬৫ রান তুলে ম্যাচ জিতে যায় ক্যাপিটালস৷ ২ উইকেটে ম্যাচ জিতে চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে কোয়ালিফায়ার-টু’এর লড়াইয়ের ছাড়পত্র আদায় করে দিল্লি৷ আইপিএলে নক-আউটে এটিই প্রথম জয় দিল্লি ক্যাপিটালসের৷

সানরাইজার্সের হয়ে ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নেমে ঋদ্ধিমান সাহা মাত্র ৮ রান করে আউট হলেও ওপেনিং জুটিতে ৩.১ ওভারে ৩১ রান তুলে ফেলে সানরাইজার্স৷ অপর ওপেনার গাপ্তিল ১৯ বলে ৩৬ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে ফিরে যান৷ তিনি ১টি চার ও ৪টি ছক্কা মারেন৷ মণীশ পান্ডে সতর্ক হয়ে ব্যাট করেন৷ তিনি ৩৬ বলে ৩০ রান করে আউট হন৷

আরও পড়ুন: ১০ দিনের ‘ব্রেক’ নিয়ে দলের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন শোয়েব

কেন উইলিয়ামসন, বিজয় শঙ্কর, মহম্মদ নবিরা বড় রানের ইঙ্গিত দিয়েও আউট হয়ে বসেন৷ উইলিয়ামসন ২৭ বলে ২৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন৷ বিজয় শঙ্কর ১১ বলে ২৫ রানের আগ্রাসী ইনিংস খেলে ক্রিজ ছাড়েন৷ নবি ১৩ বলে ২০ রান করে উইকেট দেন৷ বোলার কীমো পলের সঙ্গে ধাক্কায় দূর্ভাগ্যজনক রানআউট হওয়ার আগে দীপক হুডা মত্র ৪ রান করেন৷ খাতা কোলার আগেই রশিদ খান আউট হয়ে যান৷ বাসিল থাম্পি অপরাজিত থাকেন৷

কীমো পল ৩২ রানে ৩ উইকেট নেন৷ ৩৪ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন ইশান্ত শর্মা৷ ৪ ওভারে মাত্র ১৬ রান খরচ করে ১টি উইকেট নিয়েছেন অমিত মিশ্র৷ ৩৭ রান দিয়ে ১টি উইকেট দখল করেন ট্রেন্ট বোল্ট৷

আরও পড়ুন: টি-২০ লিগে পূজারা

পালটা ব্যাট করতে নেমে দিল্লি ওপেনিং জুটিতে ৬৬ রান তোলে৷ শিখর ধাওয়ান ১৬ বলে ১৭ রান করে আউট হন৷ শ্রেয়স আইয়ার ৮ রানের বেশি সংগ্রহ করতে পারেননি৷ আইয়ারকে ফিরিয়ে দেওয়ার পর একই ওভারে পৃথ্বীকেও আউট করেন খলিল আহমেদ৷ পৃথ্বী সাজঘরে ফেরার আগে ৬টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ৩৮ বলে ৫৬ রান করেন৷

কলিন মুনরো (১৪) ও অক্ষর প্যাটেলকে (০) একই ওভারে আউট করেন রশিদ খান৷ রাদারফোর্ড ৯ রান করে উইকেট দিয়ে বসেন৷ ২টি চার ও ৫টি ছক্কার সাহায্যে ২১ বলে ৪৯ রান করে ঋষভ পন্ত দিল্লিকে জয়ের দোরগোড়ায় আনেন বটে, তবে ফিনিশিং টাচ দিতে পারেননি৷ শেষ ওভারে অমিত মিশ্র ফিল্ডিংয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আউট ঘোষিত হন৷ শেষে কীমো পল স্বস্তি এনে দেন দিল্লি শিবিরে৷

আরও পড়ুন: সহজ ম্যাচ কঠিন করে জয় মিতালিদের

হায়দরাবাদের হয়ে দু’টি করে উইকেট নেন ভুবনেশ্বর, খলিল আহমেদ ও রশিদ খান৷ একটি উইকেট দীপক হুডার৷ ম্যাচের সেরা হয়েছেন ঋষভ পন্ত৷