নয়াদিল্লিঃ এক ডাক্তারের শরীরে করোনা ভাইরাস মেলাতে বন্ধ করা হয়েছে দিল্লির এক হাসপাতাল। জানা গিয়েছে ওই ডাক্তার তার ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে কিছুদিন আগে ইংল্যান্ডে গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই তিনি সংক্রমিত হয়েছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। ফিরে এসে দিল্লির ওই হাসপাতালে রোগীও দেখেছিলেন। যার ফলে ভয়াবহ সংক্রমণের আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ডাক্তারের শারীরিক রিপোর্ট সামনে আসার পরে কার্যত বন্ধ করা হয়েছে ওই হাসপাতালের আউটডোর।

ওই সংক্রমিত ডাক্তার পূর্ব দিল্লির ষ্টেট ক্যান্সার হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। বুধবার তার রিপোর্ট দেখার পরেই নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল যে তিনিও ওই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। এই মুহূর্তে তার চিকিৎসা চলছে। আর এই মুহূর্তে ওই ষ্টেট ক্যান্সার হাসপাতাল স্যানিটাইজিং করার জন্য কার্যত বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া এই মুহূর্তে ওই হাসপাতালে বেশ কয়েকজন জন রোগী রয়েছেন। ওপিডি বন্ধ হলেও ওয়ার্ডের পরিষেবা এখনও চালু রয়েছে। ওই ডাক্তার যাদের দেখেছিলেন তাদের খোঁজ চলছে।

আর হাসপাতালের তরফ থেকে জানানো হয়েছে এই মুহূর্তে ওই রোগীদের ছাড়া হবে না। এর আগে দিল্লির বেশ কিছু ডাক্তারের শরীরে পাওয়া গিয়েছিল এই ভাইরাসের অস্তিত্ব। আর সেই কারণে সেই সকল ডাক্তারদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিল। তাছাড়াও মঙ্গলবারে দিল্লির জনতা মজদুর কলোনির এক ডাক্তারের রিপোর্টে ধরা পরেছিল করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব।

ওই হাসপাতালে যে সকল রোগী গিয়েছিলেন ১২ মার্চ থেকে ২০ মার্চের মধ্যে গিয়েছিলেন তাদের সকলকে কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যে। দিল্লি স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিকের তরফে জানা গিয়েছে ওই ডাক্তারের স্ত্রী এবং সন্তানের শরীরেও পাওয়া গিয়েছে ওই ঘাতক ভাইরাস। সেই কারণে তাদের ও করা নজরে রাখা হচ্ছে।

এখনও পর্যন্ত জানা গিয়েছে ওই ডাক্তারের সংস্পর্শে প্রায় ৮০০জন রোগী এসেছিলেন। তাদের সকলকে কোয়ারেন্তাইনে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনিতেই দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। সব থেকে বেশী আক্রান্তের হার মহারাষ্ট্র এবং কেরলে। এছাড়া অন্যান্য রাজ্য থেকেও প্রায় প্রতিদিন পাওয়া যাচ্ছে নতুন আক্রান্তদের। এছাড়া দেশ জুড়ে এই ভাইরাসে মারা গিয়েছেন অনেকে। তবে আশার কথা অনেকেই ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন এই ভাইরাসের কবল থেকে।