নয়াদিল্লি: ভারত সফরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সঙ্গে রয়েছেন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এবং মেয়ে এবং ইভাঙ্কা। আর সেই মার্কিন অতিথিরা যখন রাজধানীর বিলাসবহুল হোটেলে রাত কাটাচ্ছেন। তারই মধ্যে জ্বলছে দিল্লির আরেক প্রান্ত।

দিল্লির আইটিসি মৌর্য হোটেলে থাকছেন ট্রাম্প। বিলাসবহুল চাণক্য স্যুটে তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা। আর দিল্লির আরেকদিক যেন যুদ্ধক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে। শুধু পাথর ছোড়া আর আগুন ধরিয়ে দেওয়া নয়, একের পর এক মৃত্যু দেখল রাজধানী।

সোমবার বিকেল থেকেই উত্তপ্ত দিল্লি। প্রথমে এক হেড কনস্টেবলের মৃত্যু ও পরে একের পর এক চার সাধারণ নাগরিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। মধ্যরাত পর্যন্ত আগুন জ্বলছে দিল্লির জায়গায় জায়গায়।

প্রথম দিনের সফরে ট্রাম্প আমেদাবাদ এবং আগ্রাতে গেলেও দ্বিতীয় দিনের সফরে কিন্তু বেশিরভাগ সময় দিল্লিতে কাটাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাই দিল্লির এই পরিস্থিতি কিভাবে সামাল দেয়া হবে তাতেই চিন্তায় নিরাপত্তা আধিকারিকরা। আঁটোসাঁটো নিরাপত্তা বন্দোবস্ত করা হয়েছে যাতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সামনে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

এদিকে, সোমবার রাত পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এক পুলিশ কনস্টেবলসহ। ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর। এদের মধ্যে চারজনই সাধারন নাগরিক। স্থানীয়রা জানিয়েছে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে এ দিনের সংঘর্ষে।

এদিন দিল্লির পরিস্থিতির যেসব ছবি প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে তাতে রাজধানীকে যুদ্ধক্ষেত্র ছাড়া আর কিছুই মনে হচ্ছে না। ধ্বংস হয়েছে একের পর এক গাড়ি বাড়ি দোকানপাট সব কিছুই। এমনকি পেট্রোল পাম্পে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এদিন ভজনপুর আর একটি পেট্রোল পাম্পে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

নাগরিকত্ব আইনের পক্ষে এবং বিরোধীদের মধ্যে এদিনের সংঘর্ষ। নর্থ ইস্ট দিল্লি রাস্তা জুড়ে পড়ে আছে কাজ পাথরের টুকরো। চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পুড়ে যাওয়া গাড়ি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য পুলিশ প্রথমে কাঁদানে গ্যাসের শেল পাঠালেও পরে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়।

ইটের আঘাতে মৃত্যু হয়েছে রতনলাল নামে এক পুলিশের হেড কনস্টেবলের। বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইটের আঘাতে গুরুতর চোট পান রতনলাল। তখনই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে এক বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে বন্দুক নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন।