গুয়াহাটি: গোষ্ঠী সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়েছিল সমগ্র এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৪৪ ধারা জারি করেচিল প্রশাসন। সেই সক প্রতিকূলতার মাঝে ঝুঁকি নিয়ে হিন্দু বন্ধুর প্রসূতি স্ত্রীকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে নজির গড়েছেন মুসলিম অটো চালক মকবুল।

ঘটনাটি উত্তর পূর্বের রাজ্য অসমের। ওই রাজ্যের হাইলাকান্দি জেলায় গত শুক্রবার থেকে শুরু হয় গোষ্ঠী সংঘর্ষ। জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, সংঘর্ষে ১৫টি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়৷ ১২টি দোকানে লুঠতরাজ চালানো হয়৷ ১২ জন আহত হয়৷ তাদের মধ্যে তিন জনের অবস্থা গুরুতর৷ কারফিউ এর পাশাপাশি ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে৷

শুক্রবারের সেই থমথমে পরিবেশ বজায় ছিল রবিবারেও। সেদিনই প্রসব যন্ত্রণা ওঠে গর্ভবতী নন্দিতার। কিন্তু এলাকায় কার্ফু জারি থাকায় পাওয়া যাচ্ছিল না কোনও অ্যাম্বুলেন্স। অন্য কোনও গাড়ির মালিকও রাস্তায় গাড়ি নিয়ে যেতে রাজি হচ্ছিলেন না। এই অবস্থায় ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ন হন ওই মহিলার স্বামী রুবেন দাসের বন্ধু মকবুল।

পেয়াসায় অটো চালক মকবুল নিজের তিন চাকার যানের মাধ্যমেই বন্ধু রুবেন দাসের স্ত্রী নন্দিতাকে নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছে দেন। শুরু তাই নয়, সেখান থেকে রুবেনের পরিবারের লোকেদের বাড়িতেও ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। এলাকা জুড়ে জারি কার্ফু। তার আগে দফায় দফায় ঘটে গিয়েছে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে গোষ্ঠী সংঘর্ষ। সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভিন ধর্মের প্রসূতি মহিলার সাহায্যার্থে এগিয়ে এসে কার্যত নজির গড়েছেন মকবুল।

হাসপাতালে নন্দিতা দেবী জন্ম দিয়েছেন এক কন্যা সন্তানের। শিশুটি জন্মের মাধ্যমে বার্তা দিয়েছেন এই সুন্দর সম্প্রীতির। মারাত্মক হিংসার মাঝেও যেন শান্তির বার্তা দিয়েছিল গর্ভস্থ শিশুটি। বৃহস্পতিবার রুবেন এবং মকবুলের সঙ্গে দেখা করেন হাইলাকন্দির জেলাশাসক কীর্থি জাল্লি। রুবেন-নন্দিতার কন্যা সন্তানকে তিনি নাম দিয়েছেন শান্তি। তাঁর কথায়, “হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি বজায় রাখতে এই ধরণের উদাহরণ আমাদের আরও চাই।”