স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: পরিত্যক্ত বাথরুম থেকে এক কলেজ ছাত্রের পচাগলা দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল নৈহাটির দেবক এলাকায়। সূত্রের খবর, ১৭ সেপ্টেম্বর নৈহাটি রাজেন্দ্রপুর এলাকার বাসিন্দা সমরেশ মণ্ডল নিজের বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাঁকে না পাওয়া গেলে পরিবারের লোকজন ১৮ তারিখ নৈহাটি থানায় নিখোঁজ হওয়ার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

রবিবার দুপুরে নৈহাটির একটি পরিত্যক্ত বাথরুম থেকে নিখোঁজ ওই ছাত্রের পচাগলা দেহ উদ্ধার করা হয়। যদিও এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে ধরতে পারেনি পুলিশ। মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অস্বাভাবিক খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে নৈহাটি থানার পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে , মৃত বাইশ বছরের ওই যুবকের নাম সমরেশ মণ্ডল। তিনি নৈহাটি রাজেন্দ্রপুর এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, নিহত ওই যুবক হুগলি মহসীন কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। ১৭ তারিখ সমরেশ পড়তে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, অনেক রাত হলেও বাড়ি না ফেরায় চিন্তায় পড়েন সমরেশের বাড়ির লোকজন। কিন্তু রাতে বাড়ি না ফেরায় তাকে খুঁজতে বের হন তার পরিবারের লোকজন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাঁর কোনও সন্ধান না পাওয়া গেলে শেষে ১৮ তারিখ নৈহাটি থানায় নিখোঁজ হওয়ার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তার পরিবারের লোকেরা।

অবশেষে রবিবার দুপুরে দেবক এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাথরুম থেকে তার পচাগলা দেহ উদ্ধার করে স্থানীয় বাসিন্দারা এবং তাঁরাই পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় পুলিশ বাহিনী। দেবক এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রথমে পরিত্যক্ত ওই বাড়িটি থেকে পচা গন্ধ পাচ্ছিলেন তাঁরা। তার পরে তাঁদের সন্দেহ হওয়ায় পচা গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে বাড়ির ভিতরে ঢুকে দেখেন একটি পচা গলা মৃতদেহ পড়ে রয়েছে।

সঙ্গে সঙ্গে খবর যায় নৈহাটি থানায়। থানা থেকে পুলিশ এসে উদ্ধার করে মৃত দেহটি। পরে সমরেশের বাড়ির লোকেরা এসে মৃত দেহটি সনাক্ত করেন এবং তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। পুলিশ দেহটি ময়না তদন্তের জন্য পাঠায়। এদিকে তরতাজা একটি ছেলের মৃত্যুর খবর জানাজানি হতেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে নৈহাটির রাজেন্দ্রপুর এলাকায়।

কী ভাবে পড়তে না গিয়ে সমরেশ ওই পরিত্যক্ত ওই বাথ্রুমে ঢুকে পড়লেন তা নিয়ে ধন্দে পড়েছে পুলিশ। যদিও পুলিশের প্রাথমিক অনুমান সমরেশকে খুন করা হয়েছে। কিন্তু কে বা কারা খুন করল সেই ব্যাপারে স্পষ্ট ভাবে কিছু জানাতে পারেনি নৈহাটি থানার পুলিশ। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। পুরনো কোনও শত্রুতা নাকি অন্য কোনও কারণে খুন সব দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।