লুক্সেমবর্গ সিটি: ইরানের আল দায়েই’য়ের পর দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে দেশের জার্সি গায়ে গোলের সেঞ্চুরি করার রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলতে পারতেন এদিনই। যার জন্য প্রয়োজন ছিল জোড়া গোল। রবিবার যদিও সেই রেকর্ড ছোঁয়া সম্ভব হল না ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর। তবে জোড়া গোল না পেলেও লুক্সেমবর্গের বিরুদ্ধে গোল এল তাঁর পা থেকে। আর আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে ৯৯তম গোলের সঙ্গেই দলের ইউরোর মূলপর্ব নিশ্চিত করলেন রোনাল্ডো।

গত ম্যাচে লিথুয়ানিয়াকে হাফডজন গোলে হারালেও আগামী বছর ইউরোর মূলপর্ব নিশ্চিত ছিল না ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের। ঘাড়েই নিঃশ্বাস ফেলছিল সার্বিয়া। তাই শেষ ম্যাচে লুক্সেমবর্গকে হারানোই সবচেয়ে নিরাপদ রাস্তা ছিল পর্তুগালের জন্য। গুরুত্বপূর্ণ সেই ম্যাচে প্রতিপক্ষকে ২-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ-‘বি’ থেকে ইউরোর টিকিট কনফার্ম করল গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। রোনাল্ডো ছাড়া আরেকটি গোল ব্রুনো ফার্নান্ডেজের।

ফিফা র‍্যাংকিংয়ে ৯৬তম স্থানে থাকা লুক্সেমবর্গের প্রতিরোধ এদিন তারিফযোগ্য। পর্তুগালের মাঝমাঠে যথারীতি উজ্জ্বল ম্যাঞ্চেস্টার সিটি মিডফিল্ডার বার্নার্দো সিলভা। তাঁর অ্যাসিস্টেই ৩৯ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন ফার্নান্ডেজ। সিলভার পাস ধরে বক্সের মধ্যে ডান পায়ের কোনাকুনি জোরালো শটে বিপক্ষ গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ফার্নান্ডেজ। এছাড়াও মরিস ডেভিল ও গ্রেসন রডরিগেজের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট না হলে আরও বড় ব্যবধানে এগিয়ে যেতে পারত ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ফন্তের হেডারও অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তবে দ্বিতীয়ার্ধে তুলনামূলক ভালো ফুটবল উপহার দেয় লুক্সেমবর্গ। বেশ কিছু ইতিবাচক সুযোগ পেলেও অভিজ্ঞতার অভাব সেই সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। উলটে ম্যাচ শেষ হওয়ার মিনিট চারেক আগে দ্বিতীয় গোল তুলে নিয়ে ইউরোর মূলপর্ব পাকাপাকিভাবে নিশ্চিত করে পর্তুগাল। গোলটি রোনাল্ডোর হলেও সিংহভাগ অবদান সেই বার্নার্দো সিলভারই। ম্যান সিটি মিডফিল্ডারের ক্রস থেকে দিয়োগো জোতার প্রচেষ্টা গোলরক্ষকের নাগাল এড়িয়ে গোলে ঢোকার মুখে আলতো টোকা দেন জুভেন্তাস তারকা।

এই জয়ের ফলে গ্রুপ-‘বি’র দ্বিতীয় স্থানাধিকারী হিসেবে মূলপর্ব নিশ্চিত করল ফার্নান্দো স্যান্টোসের ছেলেরা। ৮ ম্যাচে তাঁদের সংগৃহীত পয়েন্ট সংখ্যা ১৭। গ্রুপের শীর্ষস্থানাধিকারী হিসেবে মূলপর্ব আগেই নিশ্চিত করেছিল ইউক্রেন।